অতিরিক্ত আঘাতেই মৃত্যু

যোগফল প্রতিবেদক

30 Nov, 2020 07:29am


অতিরিক্ত আঘাতেই মৃত্যু
ছবি : সংগৃহীত

সিলেটে পুলিশের নির্যাতনের শিকার রায়হান আহমদ কোনো বিষক্রিয়ায় মারা যাননি। তার মৃত্যু একটি হত্যাকাণ্ড। রায়হানের প্রথম ভিসেরা প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। রোববার [২৯ নভেম্বর ২০২০] পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে ভিসেরা প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেন ওসমানী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডাক্তার সামসুল ইসলাম।

নগরীর আখালিয়া বাসিন্দা রায়হানকে (৩৪) এ বছরের ১০ অক্টোবর রাতে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে পুলিশ প্রচণ্ড নির্যাতন করে। ১১ অক্টোবর সকালে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। 

মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার সাব ইন্সপেক্টর (বরখাস্ত) এসআই আবদুল বাতেন নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ছাড়াই লাশের সুরতহাল তৈরি করেন। এদিকে ওইদিন রাতেই রায়হানের স্ত্রী তামান্না আক্তার হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। আদালত মামলার তদন্তভার পিবিআইকে দেন। এরপর নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ১৫ অক্টোবর রায়হানের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করা হয়। 

একইদিন ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ রায়হানের প্রথম পোস্টমর্টেমের প্রাথমিক প্রতিবেদন দেয়। এতে রায়হানের শরীরে ১১৪টি আঘাতের চিহ্ন এবং অতিরিক্ত আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রথম পোস্টমর্টেমের ভিসেরা নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। সেই নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ভিসেরা প্রতিবেদন ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছায়। এরপর তা রোববার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সামসুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, ভিসেরা নমুনায় কোনো ধরনের বিষক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এটা একটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পোস্টমর্টেমের প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল অতিরিক্ত আঘাতেই রায়হানের মৃত্যু হয়েছে। 

এটা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ভিসেরা নমুনা পাঠানো হয়। ভিসেরা প্রতিবেদনেও বিষয়টি নিশ্চিত হল: রায়হানের মৃত্যু অতিরিক্ত আঘাতের কারণেই হয়েছে।


বিভাগ : অপরাধ