বাংলাদেশের ১৫ সরকারি চিনিকলের মধ্যে ছয়টি বন্ধ হচ্ছে

যোগফল ডেস্ক

05 Dec, 2020 12:13pm


বাংলাদেশের ১৫ সরকারি চিনিকলের মধ্যে ছয়টি বন্ধ হচ্ছে
ছবি : সংগৃহীত

অব্যাহত লোকসান আর বিপুল পরিমাণ দায়দেনার ভারে পর্যুদস্ত  দেশের ১৫টি সরকারি চিনিকলের মধ্যে ছয়টি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। 

মঙ্গলবার [ ১ ডিসেম্বর ২০২০] শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে  জানানে হয়েছে, চিনি আহরণের হার, আখের জমি, মিলের দক্ষতা, লোকসান ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, এসব বিবেচনায় নিয়ে চলতি আখমাড়াই মৌসুমে ১৫ চিনিকলের মধ্যে নয়টি  চিনিকলে আখ উৎপাদন ও মাড়াই বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে চলতি মৌসুমে আখমাড়াই বন্ধ থাকবে ছয় চিনিকলে। আগামী মৌসুমে বাকি তিন চিনিকলও বন্ধ হবে।  

আখমাড়াই স্থগিত হওয়া চিনিকলগুলোর মধ্যে রয়েছে পাবনা সুগার মিল, কুষ্টিয়া সুগার মিল, পঞ্চগড় সুগার মিল, শ্যামপুর সুগার মিল, রংপুর সুগার মিল ও সেতাবগ্ঞ্জ সুগার মিল।

সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব মিলে চলতি মৌসুমে আখ মাড়াই করা হবেনা সেসব এলাকায় উৎপাদিত ও কৃষকের সরবরাহ করা আখ নিকটস্থ চালু চিনিকলে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। উৎপাদন স্থগিত করা  মিল হতে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও চালু করা মিলে সংযুক্ত বা বদলি করে সমন্বয় করা হবে।

চিনি শিল্পের সংকটের মূলে প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে দায়ি করে শ্রমিক নেতারা বলছেন, চিনি কল বন্ধ করে দেবার এটি এক দীর্ঘমেয়াদি ষড়যন্ত্র। 

খাদ্য ও চিনি শিল্প কর্পোরেশনের সচিব কৃষিবিদ মো. আবদুল ওয়াহাব স্বীকার করেছেন, তাদের উৎপাদিত চিনি তেমন বিক্রি হচ্ছে না। যার কারণে, চিনিকলগুলো চালাতে গিয়ে আর্থিক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। 

এদিকে, সরকারি অর্থ সহায়তা না পাওয়ায় বিএসএফআইসি চলতি মৌসুমে আখ চাষীদের ঋণ দিতে পারে নি। করপোরেশন মনে করছে, এতে আখ উৎপাদন কমতে পারে। ফলে সংকট আরও বাড়তে পারে ।

এ প্রসঙ্গে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার জানান, বাংলাদেশে এতগুলো সুগার মিলের দরকার নেই।  চার-পাঁচটি  মিলের উৎপাদন দিয়েই দেশের চাহিদা পূরণ সম্ভব। 

বাংলাদেশে ১৮ লাখ মেট্রিক টন চাহিদার বিপরীতে মাড়াই মৌসুমে সরকারি মিলগুলোর মোট উৎপাদন মাত্র ৮২ হাজার টন চিনি। অপরদিকে,  করপোরেশনের ঘাড়ে ৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ব্যাংকঋণের সঙ্গে, চেপে আছে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা আর আখ চাষিদের বকেয়া সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা।

চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন বলছে, গত পাঁচ অর্থবছরে ১৫টি চিনিকলে ৩ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে সরকার। এ সময় কেজি প্রতি চিনি উৎপাদনে সর্বনিম্ন ১৯০ টাকা থেকে ২৩০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে। অথচ বাজারে তার সর্বোচ্চ দর ৭০ টাকা। 

এদিকে, ছয়টি চিনিকল বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার [৩ ডিসেম্বর] সকালে পাবনা  সুগার মিলের সামনে ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ ও মিল গেটের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে কয়েক'শ শ্রমিক-কর্মচারী ও আখ-চাষী। প্রায় ঘণ্টা-ব্যাপী চলা বিক্ষোভে রাস্তার দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। সড়ক অবরোধকারীরা রাস্তায় শুয়ে ও বসে মিল বন্ধের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পরে র‌্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মহাসড়ক ছেড়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানালে শ্রমিকরা মিল গেটের সামনে বিক্ষোভ করেন।

পাবনা সুগার মিলস ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান উজ্জ্বল জানান, আখ চাষী ফেডারেশনসহ ছয় চিনিকলের নেতৃবৃন্দের ঢাকায় সমবেত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকেই বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সূত্র: রেডিয়ো তেহরান।



এই বিভাগের আরও