ভাস্কর্য ভাঙচুরের সিসিটিভি ভিডিয়োতে যা দেখা গেলো

যোগফল ডেস্ক

06 Dec, 2020 06:48pm


ভাস্কর্য ভাঙচুরের সিসিটিভি ভিডিয়োতে যা দেখা গেলো
ছবি : সংগৃহীত

কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে বাংলাদেশের সূচনাকারী রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন এই ভাস্কর্যের কিছু অংশ ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়া শহরে নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুরের সিসিটিভি ভিডিয়োতে দেখা গেছে, দুইজন ব্যক্তি জড়িত ছিল এই ভাঙচুরে।

পুলিশ বলছে, তারা এই ভিডিয়ো দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করেছে।

জেলার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত বলেছেন, "ফুটেজ দেখেই তদন্ত হচ্ছে"।

শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে নির্মাণাধীন ভাস্কর্যটির কাছেই একটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এরমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে।

তাতে দেখা যাচ্ছে চারপাশে বাঁশ ও কাঠের পাটাতন দিয়ে ভাস্কর্যটি ঘিরে রাখা।

একটি মই বেয়ে দুইজনকে উঠতে দেখা যাচ্ছে।

এই ঘটনার সময় রাতের বেলায় তবে রাস্তায় আশপাশ থেকে কিছুটা আলো এসে পড়েছে।

যাতে দেখা যাচ্ছে ভাস্কর্যটি বানাতে যে কাঠের পাটাতন তৈরি করা হয়েছে ওই দুইজন সেখানে উঠে কোন সময় নষ্ট না করে ভাস্কর্যটির উপরের দিকে কিছু একটা দিয়ে জোরে আঘাত করছেন।

দুইজনের পরনে সাদা আলখাল্লা ও পায়জামা। শরীরের ওপরের অংশে কালো ভেস্ট অথবা কোটের মতো কিছু পরে আছেন তারা। মাথায় রয়েছে সাদা টুপি।

শনিবার [৫ ডিসেম্বর ২০২০] সকালে নির্মাণাধীন সাদা রঙের ভাস্কর্যটির হাত ও মুখের কিছু অংশ ভাঙ্গা অবস্থায় দেখা যায়।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় কুষ্টিয়া পৌরসভার উদ্যোগে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভাস্কর্যটির অনেকাংশ নির্মাণ সম্পন্নও হয়েছিল।

স্থানীয় পুলিশ বলছে শুক্রবার গভীর রাতে এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

ওদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ রোববার [৬ ডিসেম্বর ২০২০] কুষ্টিয়া গেছেন। কমিটির এই বৈঠকে তিনি অংশ নিয়েছেন।

একই সাথে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য হানিফ বলেছেন, "দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের খুব দ্রুতই গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।"

একটি প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানাচ্ছেন কর্মকর্তারা।

জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে।

ওদিকে শনিবার বিকালে কুষ্টিয়া শহরে জেলার বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

সেখানে বেশ কয়েকটি চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করা হয়েছে। এই ঘটনায় কোন মামলা হয়নি এখনও।

তবে জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন জানিয়েছেন, যে প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে তারা বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুরসহ সকল বিষয় খতিয়ে দেখবে।

দেশের ইসলামপন্থী দলগুলোর ঢাকায় একটি মুজিব ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করে গত কিছুদিন যাবৎ প্রতিবাদ বিক্ষোভ করছে।

যাকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে ইসলামপন্থীদের টানাপোড়েন চলছে।

বরাবরই ভাস্কর্যবিরোধী অবস্থানে সামনের সারিতে থাকা দল হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল ইসলাম এক বক্তব্যের পর উত্তেজনার শুরু।

হেফাজতে ইসলামের আমীর জুনাইদ বাবুনগরী ২৭ নভেম্বর এক বক্তব্যের পর সেই উত্তেজনাকে আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

তিনি চট্টগ্রামে একটি ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠানে বলেছেন, "কেউ যদি আমার আব্বার ভাস্কর্য স্থাপন করে, সর্বপ্রথম আমি আমার আব্বার ভাস্কর্যকে ছিঁড়ে, টেনে-হিঁচড়ে ফেলে দেব।"

এরপর থেকে ভাস্কর্যের পক্ষে বিপক্ষে দেশব্যাপী বিক্ষোভ চলছে। গত শুক্রবার ঢাকায় ভাস্কর্যবিরোধী একটি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।

চলমান বিতর্কের মাঝেই দেশের বেশ কিছু ইসলামী চিন্তাবিদদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "মানবমূর্তি ও ভাস্কর্য যে কোন উদ্দেশ্যে তৈরি করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।"

তারা বলেছেন, "এমনকি কোন মহৎ ব্যক্তি ও নেতাকে মূর্তি বা ভাস্কর্য স্থাপন করে শ্রদ্ধা জানানো শরিয়ত সম্মত নয়।" সূত্র: বিবিসি বাংলা।


বিভাগ : তালাশ


এই বিভাগের আরও