সাক্ষিকে ভাড়া দিলেন বিচারক

যোগফল রিপোর্ট

09 Dec, 2020 07:30pm


সাক্ষিকে ভাড়া দিলেন বিচারক
ছবি প্রতীকী

মাদক মামলার সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আদালতের কাছে ফরিয়াদ জানালেন, তিনি গরিব মানুষ। কাজকর্ম নেই। ধারকর্জ করে ফেনী থেকে এসেছেন।

এখন বাড়ি যাওয়ার টাকা নেই। এ কথা শুনে আদালতের বিচারক তেহসিন ইফতেখার তাকে গাড়িভাড়া বাবদ ৫০০ টাকা দেন।

মঙ্গলবার [৮ ডিসেম্বর ২০২০] ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত ৭ এ ঘটনা ঘটে।

নাসির উদ্দিন বলেন, ‘স্যারকে বললাম, আমার গাড়িভাড়া নাই। আমি বেকার মানুষ। এই কথা শুনে স্যার আমাকে ৫০০ টাকা দিয়েছেন।’

ফেনী জেলার চরকান্দির মৃত ইদ্রিস মিয়ার সন্তান নাসির উদ্দিন মাদক মামলার জব্দ তালিকার সাক্ষি। তার সামনে র‌্যাব ৪১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। সেই মামলায় তাকে জব্দ তালিকার সাক্ষি করা হয়। সমন পেয়ে মঙ্গলবার আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসেন নাসির। এ সময় বিচারককে তিনি বলেন, ‘স্যার আমি গরিব মানুষ। ঘটনার সময় পাশের ভবনে আমি দারোয়ান ছিলাম।

দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত পাওয়ার পর গ্রামে চলে যাই। কাজকাম নাই আয় রোজগারও তেমন নাই। সাক্ষ্য দিতে আসব, তার জন্য গাড়িভাড়া নেই। ধারকর্জ করে নিয়ে এসেছি। আমাকে সরকারি গাড়ি দিয়ে পৌঁছে দেন; না হয় দেড় হাজার টাকা গাড়িভাড়া দেন। তখন বিচারক নিজের বেতন থেকে তাকে ৫০০ টাকা দেন।’

এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মাহবুবুর রহমান বলেন, পুলিশ সাক্ষির যাতায়াত ভাড়া দেওয়ার বিধান রয়েছে।

কিন্তু পাবলিক সাক্ষিদের ক্ষেত্রে কোনোরকম ভাতা দেওয়ার বিধান নেই। যে কারণে অনেক সাক্ষিই মামলায় সাক্ষ্য দিতে আসতে আগ্রহী হন না। মাদক মামলার জব্দ তালিকা বা ঘটনাস্থলে যাদের সাক্ষি করা হয়, তাদের অধিকাংশই ভাসমান ও গরিব।

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষি। সময়মতো সাক্ষি সাক্ষ্য দিতে না এলে মামলার বিচারকাজ বিলম্বিত হয়। সাক্ষিরা ভাসমান ও গরিব হওয়ার কারণে নিজের টাকা খরচ করে আসতেও চান না। তিনি বলেন, সাক্ষিদের নিরাপত্তা ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করা গেলে বিচারে গতি আসবে। আর এর ফলে মামলাজটও কমে আসবে।

পিপি মাহবুবুর রহমান বলেন, আসামিদের কাছ থেকে ৪১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ওই জব্দ তালিকার সাক্ষি ছিলেন নাসির উদ্দিন। আসামি অসুস্থ, তার যাতায়াত ভাড়া নেই। শুনে বিচারক তাকে ৫০০ টাকা দেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল ঢাকার ভাটারা থানার বারিধারা নতুন বাজার বাঁশতলা এলাকা থেকে র‌্যাব মো. সেলিম হাওলাদার ও মো. হেলাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কথামতো একটি মাইক্রোবাস থেকে ৪১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে র‌্যাব। এ ঘটনা তদন্ত করে ওই বছরের ২৪ জুন তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ। সূত্র: আদালত সমাচার।


বিভাগ : হ-য-ব-র-ল