ভাষা আন্দোলনে তমুদ্দুন মজলিসের ভূমিকা

আসাদুল্লাহ বাদল

06 Feb, 2020 07:40am


ভাষা আন্দোলনে তমুদ্দুন মজলিসের ভূমিকা

পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু? তমুদ্দুন মজলিশ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী ও অধ্যাপকের উদ্যোগে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ২ সেপ্টেম্বর তমুদ্দুন মজলিশ আবির্ভাব হয়।) এ প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল বাংলা ভাষার পক্ষে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর এদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

সংগঠনটির ভূমিকা যোগফল পাঠকদের জন্য নিবেদন করা হলো। প্রস্তাবগুলো নিন্মরূপ:

বাংলা ভাষাই হবে : ক) পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষার বাহন; খ) পূর্ব পাকিস্তানের আদালতের ভাষা।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ভাষা হবে দুইটি: উর্দু ও বাংলা। 

বাংলাই হবে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষা বিভাগের প্রথম ভাষা। ইহা পূর্ব পাকিস্তানের শতকরা একশতজনই শিক্ষা করবেন। উর্দু হবে দ্বিতীয় ভাষা। যারা পাকিস্তানের অন্য অংশে চাকরি ইত্যাদি কাজে লিপ্ত হবেন তারাই শুধু ও ভাষা শিক্ষা করবেন। ইহা পূর্ব পাকিস্তানের শতকরা ৫ থেকে ১৯ জন শিক্ষা করলেও চলবে। মাধ্যমিক স্কুলের উচ্চতর শ্রেণিতে এই ভাষা দ্বিতীয় ভাষা বা আর্ন্তজাতিক ভাষা। 

পাকিস্তানের কর্মচারী হিসাবে যারা পৃথিবীর অন্য দেশে চাকরি করবেন বা যারা উচ্চতর বিজ্ঞান শিক্ষায় নিয়োজিত হবেন তারাই শুধু ইংরেজি শিক্ষা করবেন। তাদের সংখ্যা পূর্ব পাকিস্তানের হাজারকরা এক জনের চেয়েও কখনও বেশি হবে না। ঠিক একই নীতি হিসাবে পশ্চিম পাকিস্তানের প্রদেশগুলোতে ওখানের স্থানীয় ভাষা বা উর্দু প্রথম ভাষা, বাংলা দ্বিতীয় ভাষা আর ইংরেজি তৃতীয় ভাষার স্থান অধিকার করবে। 

শাসনকার্য ও বিজ্ঞান শিক্ষার সুবিধার জন্য আপাতত কয়েক বৎসরের জন্য ইংরেজি ও বাংলার উভয় ভাষাতেই পূর্ব পাকিস্তানের শাসনকার্য চলবে। ইতিমধ্যে প্রয়োজন অনুয়ায়ী বাংলা ভাষার সংস্কার সাধন করতে হবে।

নোট : বাংলা ভাষার পক্ষে প্রকাশ হওয়া তমুদ্দুন মজলিসের পুস্তিকা (অংশ) এ পাকিস্তান তমুদ্দুন মজলিস। ১৬ সেপ্টেম্বর ১৭৪৭।


বিভাগ : শিকড়