বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সাবেক সাত এমডিসহ ২২ জন কারাগারে

যোগফল প্রতিবেদক

13 Jan, 2021 07:37pm


বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সাবেক সাত এমডিসহ ২২ জন কারাগারে
ছবি : সংগৃহীত

প্রায় দেড় লাখ টন কয়লা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক সাত ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) ২২ জনের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার [১৩ জানুয়ারি ২০২১] দুপুরে দিনাজপুরের স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মাহমুদুল করিম এ আদেশ দেন।  এই ২২ কর্মকর্তা উচ্চ আদালতের অন্তর্র্বতীকালীন জামিনে ছিলেন।  দুদকের করা মামলায় বুধবার অভিযোগ গঠনের দিন তারা আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করেন।  

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত (মেয়াদে) ঘাটতি করা এক লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭ দশমিক ৯৯ টন কয়লা আত্মসাতে জড়িত।  যার বাজারমূল্য ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৫০১ টাকা।  আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে তদন্তে প্রমাণ হয়েছে।

অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে যাদের নামে গ্রেফতারি পরায়ানা জারি করা হয়েছে তারা হলেন: বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক সাতজন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান, মো. আবদুল আজিজ খান, প্রকৌশলী খুরশীদুল হাসান, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, মো. আমিনুজ্জামান, প্রকৌশলী এসএম নুরুল আওরঙ্গজেব ও প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ।

দুর্নীতিদমন কমিশনের পিপি আমিনুর রহমান জানান, দিনাজপুরের স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক এই মামলায় উভয়পক্ষের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। 

স্মরণীয়, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির পক্ষে ম্যানেজার (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে পার্বতীপুর মডেল থানায় মামলা করেছিলেন। 

ওই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় দুদককে। দুদকের উপ-পরিচালক মো. সামসুল আলম এই তদন্ত শেষে চার্জশিট তৈরি করেন। চার্জশিটে এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৪ জনকে আসামি করা হয়।  এছাড়া তদন্তে নতুন করে সাতজন সাবেক এমডিসহ নয়জনের নাম বেরিয়ে আসে।