কাপাসিয়ার ‘সাথী’ বাউলিয়ানা থেকে ফোক ফেস্টে

যোগফল প্রতিবেদক

08 Feb, 2020 06:14am


কাপাসিয়ার ‘সাথী’ বাউলিয়ানা থেকে ফোক ফেস্টে
মাসুমা সুলতানা সাথী

“মাটিরে আমি বড় ভালোবাসি মাটিতে মিশাইয়া বুক” বাংলার বুকে গাজীপুর জেলার সবুজ-শ্যামল গ্রামীণ পাখির কুজনে মুখরিত এমনই কাপাসিয়া উপজেলার একটি গ্রাম বরুণ। সেখানেই বেড়ে ওঠা মাসুমা সুলতানার। 

ডাকনাম সাথী। পিতা সহকারি স্কুল শিক্ষক রফিকুল ইসলাম। মাতা রাফেজা খানম গৃহিণী। তিন বোনের মধ্যে মেজো সাথী। ছোটবেলা থেকেই গান ও সুরের প্রতি তার অসম্ভব ঝোঁক। মাটি ঘেঁষা পল্লী সুর সাথীকে অনেক বেশি টানে। সেই থেকেই গানের জগতে আসা। গানকে লালন করেন অন্তর দিয়ে। 

সাথীর গানের হাতেখড়ি কাপাসিয়ারই এক গানের শিক্ষক এইচ এম স্বর্ণকোমলের হাত ধরে। ছোট থেকেই সাথী যেকোন গান একবার শোনেই কণ্ঠস্থ করতে পারেন অবলীলায়। স্বর্ণকোমল এখন বেশ বয়সী। শিক্ষক হিসাবে শিক্ষার্থীর মঙ্গল কামনা করেন সবসময়।

হাই স্কুলে পড়ার সময় বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক গানের অনুষ্ঠানে (জতীয় শিক্ষা সপ্তাহ, শিশু কিশোর প্রতিযোগিতা, জাতীয় শিশু একাডেমি প্রতিযোগিতা) অংশ নেন তিনি। এতে সকলের প্রশংশা কুড়ান ও সাফল্য অর্জন করেন। সাথী অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে বরুণ হাইস্কুলে। পরে এসএসসি কাপাসিয়ার হরিমঞ্জুরী স্কুল থেকে ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে।


পরে ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে স্কয়ার টয়লেটিজ লিমিটেড ও মাছরাঙা টেলিভিশনের আয়োজনে ‘ম্যাজিক’ নিবেদিত ম্যাজিক বাউলিয়ানা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রায় ২৬ হাজার প্রতিযোগীকে টপকে অর্জন করে নেন প্রথম রানার্স আপ (দ্বিতীয় স্থান) এর গৌরব। সেই থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। 

গ্রাম বাংলার মাটি ও মানুষের হৃদয় তার সুরেলা কণ্ঠের পরশে মাতিয়ে এখন শহরের বিভিন্ন নাম করা সাংস্কৃতিক মঞ্চও আজ তার লোক গানের সুরে মুখরিত। 

ইতিমধ্যে দেশের সর্ববৃহৎ লোক গানের আসর ‘আন্তর্জাতিক লোক উৎসব’ (ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট) এর আসর মাতিয়ে দেশের বাইরে ভারতের আসামের লোকউৎসবে বাংলাদেশের লোকগানকে তার সুর ও সঙ্গীতের মাধ্যমে তুলে ধরতে সচেষ্ট হয়েছেন। দেশের সুনাম রক্ষায় বিশেষ অবদানও রেখেছেন।

সাথী যোগফলকে বলেন, “সে গান করে, গান ভালোবেসে।  গানকে সে হৃদয় দিয়ে আকড়ে নিয়েছে। গানের সাথে একাত্ব না হলে গান করা সম্ভব নয়।” তাই আগে গানকে  ভালোবাসতে হবে। ছোট বেলা থেকেই সাথী কোন গান করলে প্রথমে গানের কথাগুলো বুঝতে চেষ্টা করতেন তার পর গান গাইতেন। আর গান গাওয়ার সময় সাথী যেন কোথায় হারিয়ে যায়, গান সাথীকে অন্য এক জগতের সন্ধান দিয়েছে।

গানের পাশাপাশি সাথী একাডেমিক পড়াশোনাও চালিয়েছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। পড়াশোনা শেষ হয়েছে ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে। পড়াশোনার আগ্রহ তার শেষ হয়নি। চাকরি করারও আগ্রহ রয়েছে। প্রস্তুুতিও নিচ্ছেন। একাডেমিক পড়াশোনার চাপে গানের অনুষ্ঠানে সামান্য বিরতি হলেও স্টেজ শো করছেন প্রায়ই। আগামী এপ্রিলে ভারতে একটি লোক গানের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

লোক গানের ইতিহাস ঐতিহ্য খোঁজে দেখার আগ্রহও তার রয়েছে। এমন অনেক লোক গান রয়েছে, যেগুলো নানা কারণে হারিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাওয়া গান রক্ষায় সাথী অবদান রাখতে চায়। বিশেষত গ্রাম প্রধান দেশে লোক গানের প্রতি মানুষের মোহ  তাকে আকৃষ্ট করে।

মাসুমা সুলতানা সাথী দেশবাসীর নিকটে প্রত্যাশা করে, যেন এভাবেই সারা জীবন তার সুরের মূর্ছনায় সকলকে মাতিয়ে রেখে কাপাসিয়া তথা বাংলাদেশের মুখ আরও উজ্জল করতে পারেন।


বিভাগ : বায়োস্কোপ