মিতু হত্যার প্রতিবেদন দাখিলের সময় বেড়েছে ৬ মে পর্যন্ত

যোগফল প্রতিবেদক

04 Feb, 2021 06:38pm


মিতু হত্যার প্রতিবেদন দাখিলের সময় বেড়েছে ৬ মে পর্যন্ত
ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলে ৬ মে পর্যন্ত সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আসামি ওয়াসিমের জামিন আবেদনটির শুনানি মুলতবি রেখেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার [৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১] বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আসামি মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিমের জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শংকর প্রসাদ দে। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

এর আগে ২ ডিসেম্বর মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এ মামলার আসামি ওয়াসিমের জামিন শুনানিকলে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, করোনাসহ বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তদন্ত কাজ সামান্য এগিয়েছে। এ মামলার তদন্ত শেষ করতে আরও সময়ের প্রয়োজন। এরপর আদালত তদন্তের বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলে সময় বৃদ্ধি করেন।

স্মরণীয়, ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর ও নিজাম রোডে সন্তানকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে গুলি ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার বাদি হয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে আবু নসুর গুন্নু, শাহ জামান ওরফে রবিন, সাইদুল আলম শিকদার ওরফে সাক্কু ও শাহজাহান, মো. আনোয়ার ও মোতালেব মিয়া প্রকাশ ওয়াসিম নামে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।

এই হত্যায় অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে আটক হন এহেতাশামুল হক ভোলা ও তার সহযোগী মো. মনির। তাদের কাছ থেকে পয়েন্ট ৩২ বোরের একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয় যেটি মিতু হত্যায় ব্যবহার হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছিল।

আনোয়ার ও মোতালেব মিতু হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। তাদের স্বীকারোক্তিতে মিতু হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে নাম আসে বাবুল আক্তারের সোর্স হিসেবে পরিচিত মো. মূছার।

মিতুর পিতা পুলিশের সাবেক পরিদর্শক মোশারফ হোসেন মিতু হত্যায় বাবুল আক্তারকে দায়ি করেন। তিনি তদন্ত কর্মকর্তাকে অভিযোগের সাপেক্ষে বেশ কিছু ক্লু দেন বলে জানান মোশারফ হোসেন।

২০১৭ সালের ২৪ জুন রাতে ঢাকার বনশ্রীর শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবুল আক্তারকে ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে প্রায় ১৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

চাঞ্চল্যকর এই মামলার কোনও কূল-কিনারা করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার গত জানুয়ারিতে চলে যায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে।

এদিকে, মামলাটি তদন্তাধীন থাকাবস্থায় প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে কারাবন্দি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর এলাকার আবদুন নবীর সন্তান আসামি মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন জানান।


বিভাগ : অপরাধ


এই বিভাগের আরও