পুলিশের বিরুদ্ধে অপরাধের তথ্য পেলেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

যোগফল প্রতিবেদক

14 Feb, 2021 08:07pm


পুলিশের বিরুদ্ধে অপরাধের তথ্য পেলেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
ছবি : সংগৃহীত

ক্রাইম ভিক্টিম (অপরাধের শিকার) হওয়া ব্যক্তির পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১) বিকালে ডিএমপি হেডকোয়াটার্সে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহি কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম এই তথ্য জানান।

কমিশনার বলেন, আমাদের পরিকল্পনা ছিল ক্রাইম ভিক্টিমের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। কারণ পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অপরাধের শিকার হয়ে প্রাণ হারালে তার পরিবার নিদারুণ অসহায় হয়ে পড়ে। তাদের কোন উপায় থাকে না। তাই আমার পরিকল্পনা ছিল ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ গাড়ি থেকে যে জরিমানা আদায় করে তার অন্তত: ৩০ শতাংশ ক্রাইম ভিক্টিম পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা। যাতে পুলিশ মানবিকভাবে পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে পারে। আমার পরিকল্পনা ছিল এবারের পুলিশ সপ্তাহে আমি এই বিষয়টি তুলে ধরবো। কিন্তু পুলিশ সপ্তাহ না হওয়ায় বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের পরিকল্পনা তুলে ধরে অর্থ বরাদ্দ চাইবো।

ক্র্যাব সভাপতি মিজান মালিক ও সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আরিফের নেতৃত্বে শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় মোহা. শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, পুলিশ সদস্যদের যাকে সন্দেহ হচ্ছে তাকে ডোপ টেস্ট (মাদকাসক্তি পরীক্ষা) করানো হচ্ছে। আমরা এরমধ্যে ১০০ জনকে শনাক্ত ও অন্তত ৩০ জনকে ডোপ নেওয়ার কারণে বরখাস্ত করেছি। ডোপ টেস্ট কার্যক্রম আরও জোরদার ও আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার। আমাদের গোয়েন্দা ইউনিট এটি নিয়ে কাজ করছে। তবে ডিএমপিতে ঢালাওভাবে ডোপটেস্ট করা হচ্ছে না।’

কমিশনার বলেন, ‘থানায় আর্থিক লেনদেনের বিরুদ্ধে আমরা সবাইকে সতর্ক করছি। থানায় মামলা বা জিডি করার পর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বাদির কাছে জানতে চাওয়া হয় যে, জিডি বা মামলার তদন্তে থানায় কোন অর্থ দিতে হয়েছে কিনা এবং তিনি যে বিষয়ে অভিযোগ বা জিডি করতে চেয়েছেন ওই বিষয়ে করতে পেরেছেন কিনা। ৯৫ শতাংশ বাদি আমাদের জানিয়েছেন যে, থানায় মামলা বা জিডি করতে কোন ধরনের হয়রানি বা টাকা পয়সা দিতে হয়নি। ডিএমপি ৩৪ হাজার পুলিশের বিশাল বাহিনী। এদের সবাই সৎ আমি সেটা বলবো না। আমি বলবো আমাদের উপ-কমিশনারদের কেউই আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত নয়। আমরা থানায় বা ডিএমপির কোন সদস্যের অনৈতিক লেনদেনের যেকোনো তথ্য পাওয়া মাত্রই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি।

মতবিনিময় সভায় ক্র্যাবের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সভাপতি মিজান মালিক ও সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আরিফ। এসময় উপস্থিত ছিলেন ক্র্যাবের যুগ্ম সম্পাদক হাসান-উজ-জামান, অর্থ সম্পাদক এমদাদুল হক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার আরিফ, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক সাজ্জাদ মাহমুদ খান, কার্যনির্বাহী সদস্য গোলাম সাত্তার রনি ও মিন্টু হোসেন।


বিভাগ : হ-য-ব-র-ল