মনিপুরের বয়স্ক পুনবার্সন কেন্দ্রে ফকির আলমগীরের জন্মবার্ষিক উদযাপন

রোকুনুজ্জামান খান

22 Feb, 2021 09:08pm


মনিপুরের বয়স্ক পুনবার্সন কেন্দ্রে ফকির আলমগীরের জন্মবার্ষিক উদযাপন
ছবি : সংগৃহীত

গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীরের জন্মবার্ষিক পালন উপলক্ষ্যে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাক্তার এনামুর রহমান এমপি বলেছেন, ফকির আলমগীর এমন একজন মানুষ যিনি সবসময় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য সঙ্গীতের মাধ্যমে লড়াই করে গেছেন। তার আমন্ত্রণে অনুষ্ঠানে থাকতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। বয়ষ্ক পুণর্বাসন কেন্দ্রে যারা আছেন, আমরা জানি একাকী বাসের কী যে যন্ত্রণা। অনেক দু:খ ব্যাথা ও যন্ত্রণা নিয়ে এখানে যারা আছেন তাদের সাথে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্মবার্ষিক আমরা উদযাপন করছি।

সোমবার [২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১] বিকাল সাড়ে চারটায় গাজীপুরের মনিপুর বিশিয়া কুড়িবাড়ী এলাকায় বয়ষ্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীরের “আনন্দ আয়োজন” শিরোনামে ৭১তম জন্মবার্ষিক আড়ম্বরপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতায় পালিত হয়।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা বয়ষ্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে রয়েছেন তাদের জন্য প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সকল প্রকার সেবাসমূহ প্রদান করছেন। তারপরও পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে থাকাটা কতটা বেদনার তা কেবল তারাই বোঝেন। সরকারের তরফ থেকে ইনডাইরেক্টলি প্রতিষ্ঠানটিকে আমরা সহায়তা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক খতিব আব্দুল জাহিদ মুকুল না করে দিয়েছেন। সম্পূর্ণ নিজের তহবিল থেকেই তিনি এখানে খরচ করেন।

ফকির আলমগীর তার ৭১তম জন্মবার্ষিকের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, যাদের জীবন অবহেলিত বিপন্ন, যারা একাকীত্ববোধ করেন, যারা নিরানন্দ বোধ করেন তাদের সাথে জন্মবার্ষক উৎযাপন করার আমার আগেরই ঘোষণা। জাতীয় যাদুঘরে যখন ৭০তম জন্মবার্ষিক করেছিলাম তখন একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বলেছিলাম আর কোনো চাকচিক্য আধুনিক আলোকোজ্জল সমাবেশে আমার জন্মবার্ষিক করব না। যতদিন বেঁচে থাকব কখনও বৃদ্ধাশ্রম, কখনও পথশিশু, কখনও কুলি, কখনও মুজুর, তাদের সাথে একাত্ব হয়ে আমি আমার জন্মবার্ষিক পালন করব।

বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আমরা জলপাই রঙের বাংলাদেশ পেতাম না। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিক এ আমার ৭১তম জন্মবার্ষিক বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গ করলাম। এসময় তিনি দেশাত্ববোধক একটি সঙ্গীত গাওয়ার মাধ্যমে কেন্দ্রের অশীতিপর বাসিন্দা আব্দুল হালিমের গায়ে জাতীয় পাতাকা জড়িয়ে দেন।

বয়ষ্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক খতিব আব্দুল জাহিদ মুকুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সম্মিলিত সাংষ্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনয়শিল্পী সালমা বেগম সুজাতা, কন্ঠশিল্পী মো. খুরশিদ আলম, পল্লীমা সংসদের সূচনাকারী সভাপতি হাফিজুর রহমান ময়না, গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জাকী, এডিশনাল এসপি রাসেল শেখ। শেষে মনোজ্ঞ সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।


বিভাগ : কোমল