বিমা খাতের উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

যোগফল প্রতিবেদক

01 Mar, 2021 06:45pm


বিমা খাতের উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা (ফাইল ছবি)

বাংলাদেশের ‘বিমা খাত উন্নয়ন’ নামের একটি প্রকল্প প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৬৩২ কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইন্স্যুরেন্স করপোরেশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালী করা হবে। সেই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশে ইন্স্যুরেন্স কভারেজ বৃদ্ধি করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (১ মার্চ ২০২১) জাতীয় ‘বিমা দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বলেন, এটি বাস্তবায়ন হলে দেশের বিমা খাতের সক্ষমতা আরও বাড়বে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর বিমা পেশায় যোগদানের স্মৃতি বিজড়িত ১ মার্চ জাতীয় বিমা দিবস’ পালন হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। বিমা দিবসের প্রতিপাদ্য মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, বিমা হউক সবার’ যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে বিমার গুরুত্ব এবং এর অবদানের বিষয়টি বিবেচনা করে স্বাধীনতার পর বিমা শিল্পকে অধিকতর অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়নের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর সরকার ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স (জাতীয়করণ) আদেশ ১৯৭২ জারি করে ৪৯টি দেশি-বিদেশি বিমা কোম্পানিকে জাতীয়করণের মাধ্যমে সুরমা, রূপসা, তিস্তা এবং কর্ণফুলী নামে চারটি বিমা কর্পোরেশন গঠন করেছিলেন। একই সঙ্গে এই চারটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে জাতীয় বিমা করপোরেশন গঠন করেন। পরে অল্প সময়ের মধ্যে দেশের বিমা শিল্পের উন্নয়নে ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন আইন ১৯৭৩’ প্রণয়ন করে এই চারটি করপোরশনকে ভেঙে জীবন বিমা করপোরেশন’ এবং সাধারণ বিমা করপোরেশন’ নামে দুইটি বিমা করপোরেশন গঠন করেন। এ দুই করপোরেশন এখনও দেশে বিমা ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে দেশের জনগণকে বিমা সেবা দিয়ে আসছে। বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিমা অধিদফতর গঠন করেন।

তিনি আরও বলেন, বিমা শিল্পের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ অনুসরণ করে ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে আওয়ামী লীগ সরকার বিমার গুরুত্ব ও সুফল জনগণের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্কারমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। পুরাতন বিমা আইন ১৯৩৮ রহিত করে সময়োপযোগী বিমা আইন ২০১০’ এবং বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন ২০১০’ প্রণয়নপূর্বক তৎকালীন বিমা অধিদফতরকে বিলুপ্ত করে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ’ গঠন করা হয়।

জাতীয় বিমা নীতি ২০১৪’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিমা খাতের বিকাশে আমাদের সরকার যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিদেশগামী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রবাসী কর্মী বিমা, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি মোকাবিলায় হাওড় এলাকায় সীমিত পরিসরে আবহাওয়া সূচকভিত্তিক শস্য বিমা চালু করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ কবির হোসেন ও আর্থিক বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম।