মানহানির মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন শমী

যোগফল প্রতিবেদক

07 Mar, 2021 07:32pm


মানহানির মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন শমী
ছবি : সংগৃহীত

১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন অভিনয় শিল্পী শমী কায়সার। জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ‘চোর’ বলে উল্লেখ করায় তার বিরুদ্ধে মামলাটি হয়েছিল। মামলায় পিবিআইর চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার রোববার [৭ মার্চ ২০২১] দায় থেকে শমী কায়সারকে অব্যাহতি দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। বিচারক চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলার দায় থেকে শমী কায়সারকে অব্যাহতি দেন।

এরআগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালতে শমী কায়সারকে অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন পিবিআইর পরিদর্শক লুৎফর রহমান। সাক্ষি খুঁজে না পাওয়ায় শমী কায়সারকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

পিবিআই পরিদর্শক লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমাদের তদন্ত দল বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে মামলার কোনো সাক্ষি খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে শমী কায়সারকে অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছি।’

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর মামলার সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমানের আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান। ২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর বাদি স্টুডেন্টস জার্নাল বিডির সম্পাদক নুজহাতুল হাসান পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদনের ওপর নারাজি দেন। নারাজি শুনানি শেষে আদালত মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

পিবিআই প্রতিবেদনে পরিদর্শক লুৎফর রহমান উল্লেখ করেন, শমী কায়সারের বক্তব্যে কোনো মানহানিকর ঘটনা ঘটেনি। মামলার বাদি এ বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করতে পারেননি।

২০১৯ সালের ২৪ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ই-কমার্সভিত্তিক পর্যটন বিষয়ক সাইট ‘বিন্দু ৩৬৫’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শমী কায়সারের দুইটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। অনুষ্ঠানে অর্ধশত ক্যামেরা পারসন ছাড়াও শতাধিক মানুষ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শমী কায়সার অভিযোগ করে বলেন, সাংবাদিকরা মোবাইল চুরি করেছেন। তিনি তার নিরাপত্তাকর্মীদের দিয়ে সংবাদকর্মীদের দেহ তল্লাশিও করান। কেউ ঘটনাস্থল থেকে বের হতে চাইলে তাদের ‘চোর’ বলে ওঠেন শমী কায়সারের নিরাপত্তাকর্মীরা। এতে সংবাদকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হন। অনুষ্ঠানস্থলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। পরে সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিয়ো ফুটেজে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে কেক নিয়ে আসা লাইটিংয়ের এক কর্মী স্মার্টফোন দুইটি নিয়ে গেছেন। এরপর শমীর বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় ওঠে। ওই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতিও দেয় সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি।

পরে এ ঘটনায় ওই বছরের ৩০ এপ্রিল স্টুডেন্ট জার্নাল বিডির সম্পাদক নুজহাতুল হাসান অভিনয় শিল্পী শমী কায়সারের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ এনে মামলা করেন।



এই বিভাগের আরও