কটিয়াদীর কৃষক তাজুল হত্যা মামলায় দুইজনের ফাঁসি ও ১৩ জনের যাবজ্জীবন

যোগফল প্রতিবেদক

15 Mar, 2021 06:40pm


কটিয়াদীর কৃষক তাজুল হত্যা মামলায় দুইজনের ফাঁসি ও ১৩ জনের যাবজ্জীবন
ছবি : সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদীতে চাঞ্চল্যকর কৃষক তাজুল ইসলাম (৪৫) হত্যার দায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়া রায়ে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। 

মামলার একজন আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার বিচারিক কার্যক্রম শিশু আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সোমবার [১৫ মার্চ ২০২১] সকালে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই রায় দেন।

রায় ঘোষণাকালে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আসামি সাইকুল ইসলাম ও গোলাপ মিয়া আদালতে উপস্থিত থাকলেও যাবজ্জীবনে দণ্ডিত দুই আসামি রায়হান ও মিজান পলাতক ছিল। যাবজ্জীবনে দণ্ডিত অন্য ১১ আসামিরা হলো: মো. সাইদু, আব্দুল হামিদ, আব্দুর রহিম, বাদল মিয়া, মোস্তফা, সুলতান, হাবিব, ফারুক, জলে বেগম, আনিসা বেগম ও হেনা বেগম। তারা সবাই রায় ঘোষণাকালে আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিল। দণ্ডপ্রাপ্ত সকল আসামি কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রামের নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা এবং সবাই পরস্পরের আত্মীয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, জমিজমা নিয়ে জেলার কটিয়াদী উপজেলার নোয়াগাও গ্রামের মৃত আব্দুছ ছাত্তারের সন্তান কৃষক তাজুল ইসলামের সাথে একই এলাকার আসামিদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি বিকেল তিনটায় সিদলচুরি খালের উত্তর পাশে আ. জব্বারের মরিচ খেত ও সংলগ্ন জমিতে আসামিরা দলবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাজুল ইসলামের উপর হামলা চালায়। এতে কৃষক তাজুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এ ঘটনায় ওইদিনই নিহতের সন্তান মালা বেগম বাদি হয়ে ১৬ জনের নামাল্লেখ করে কটিয়াদী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার এসআই মো. আরব আলী তদত্ত শেষে ২০১১ সালের ১৯ মে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (নম্বর ৯৭) দাখিল করেন। 

সাক্ষ্য জেরায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বিচারক সোমবার জনাকীর্ণ আদালতে উপরোক্ত রায় প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি অ্যাডভোকেট যজ্ঞেশ্বর রায় চৌধুরী এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট অশোক সরকার মামলাটি পরিচালনা করেন।



এই বিভাগের আরও