ককসবাজারের সাবেক ডিসি কারাগারে

যোগফল ডেস্ক

17 Mar, 2021 06:50pm


ককসবাজারের সাবেক ডিসি কারাগারে
ছবি : সংগৃহীত

ককসবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক জেলাপ্রশাসক (ডিসি) মো. রুহুল আমিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

সোমবার [১৫ মার্চ ২০২১] দুপুরে রুহুল আমিন ককসবাজার জেলার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। আদালতের বিচারক মো. তৌফিক আজিজ জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারের পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দুদকের আইনজীবী মো. আবদুর রহিম বলেন, সোমবার দুপুর বারোটার দিকে সাবেক জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হন। এ সময় তিনি কাঠগড়ায় না দাঁড়িয়ে জামিনের আবেদন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আইনজীবীরা আপত্তি করলে তিনি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জামিনের আবেদন করেন। আদালতের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে বিকালে তাকে আদালত থেকে ককসবাজার জেলা কারাগারে নিয়ে যায় পুলিশ।

আদালত ও দুদক সূত্র জানায়, ককসবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়িতে এক হাজার ৪১৪ একর জমিতে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় অধিগ্রহণ করা জমির চিংড়ি, ঘরবাড়িসহ অবকাঠামোর বিপরীতে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয় ২৩৭ কোটি টাকা। এরমধ্যে ২৫টি অস্তিত্বহীন চিংড়িঘের দেখিয়ে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয় ৪৬ কোটি ২৪ লাখ ৩ হাজার ৩২০ টাকা। এ থেকে নানা কৌশলে ১৯ কোটি ৮২ লাখ ৮ হাজার ৩১৫ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।

এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর মাতারবাড়ির ব্যবসায়ী এ কে এম কায়সারুল ইসলাম চৌধুরী বাদি হয়ে সাবেক জেলাপ্রশাসক মো. রুহুল আমিন, সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) জাফর আলমসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে কসবাজার ে দায়রা জজ আদালতে একটি মামলা করেন। 

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য দুদককে নির্দেশ দেন। দুদক দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের সঙ্গে সাবেক জেলাপ্রশাসকসহ ৩৬ জনের জড়িত থাকার বিষয়টি দেখতে পায়। গত ৩ এপ্রিল তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

দুদকের আইনজীবী জানান, ৯ মে একই মামলার আসামি ও ককসবাজারের সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাফর আলমকে ঢাকার সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে দুদক। এর আগে গত ৩ এপ্রিল দুদকের বিশেষ দল ককসবাজার শহরে অভিযান চালিয়ে ককসবাজার জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার (এলও) সাবেক উচ্চমান সহকারী আবুল কাশেম মজুমদার, সাবেক সার্ভেয়ার ফখরুল ইসলাম ও ককসবাজার আদালতের আইনজীবী নুর মোহাম্মদ সিকদারকে গ্রেপ্তার করে। 

তারাও এই দুর্নীতি মামলার আসামি। সেখানে একজন সাংবাদিকও অভিযুক্ত।



এই বিভাগের আরও