রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট জালিয়াতিতে পুলিশ, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলরসহ ৫৬ আসামি

যোগফল রিপোর্ট

29 Mar, 2021 07:58am


রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট জালিয়াতিতে পুলিশ, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলরসহ ৫৬ আসামি
ছবি প্রতীকী

রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন, ভোটার তালিকাভুক্তি ও পাসপোর্ট পেতে সহযোগিতার অভিযোগে পুলিশের পাঁচ সদস্য, সাত পৌর কাউন্সিলর, দুইজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, দুই ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ও এক আইনজীবীসহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

১২টি মামলায় এদের আসামি করা হয়েছে। আসামির মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গা, স্থানীয় প্রভাবশালী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নামও।

গত ২৫ মার্চ দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এ এসব মামলা করা হয়েছে। মামলাগুলোতে অন্তর্ভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে দুর্নীতি তদন্তে নিয়োজিত সরকারি সংস্থাটি।

আসামি ৫ পুলিশ সদস্য

ককসবাজার জেলার মহেশখালী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মরত প্রভাষ চন্দ্র ধর, পেকুয়া থানার সাবেক ওসি বর্তমানে চট্টগ্রাম সিআইডির পরিদর্শক মিজানুর রহমান, ককসবাজার ডিএসবির সাবেক পরিদর্শক বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কোর্ট পরিদর্শক কাজি দিদারুল আলম, ডিএসবির সাবেক এসআই বর্তমানে রাঙামাটিতে কর্মরত সাজেদুর রহমান, ডিএসবির সাবেক এএসআই বর্তমানে ফেনীতে কর্মরত জাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

তারা সবাই ককসবাজার জেলা পুলিশের বিশেষ শাখায় (ডিএসবি) দায়িত্ব পালনকালে পাসপোর্ট তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্নীতির তথ্য পেয়েছে দুদক।

৭ পৌর কাউন্সিলর

ককসবাজার পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ও জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা জাবেদ মোহাম্মদ কায়সার নোবেল, ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মিজানুর রহমান, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিন সেতু, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিএনপি নেতা আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদ, সংরক্ষিত সদস্য মহিলা দল নেত্রী নাসিমা আকতার বকুল এবং সাবেক নারী সদস্য মহিলা দল নেত্রী হুমায়রা বেগম।

দুই চেয়ারম্যান

মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের মোশারফ হোসাইন খোকন এবং ককসবাজার সদরের পোকখালী ইউনিয়নের রফিক আহমদ।

দুই ইউনিয়ন পরিষদ সচিব

দুইজন ইউনিয়ন পরিষদ সচিবের মধ্যে একজন কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের প্রিয়তোষ দে। অপরজন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার।

এ মামলায় আইনজীবী হিসেবে একমাত্র আসামি রয়েছেন ককসবাজার শহরের নতুন বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা ও ককসবাজার আদালতের এজিপি আবুল কালাম আজাদ-৬।

এরমধ্যে মামলার অন্তর্ভুক্ত চারজন আসামিকে রোববার গ্রেপ্তার করেছে দুদক টিম।

তারা হলেন, ককসবাজার পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম, সাবেক কাউন্সিলর জাবেদ মোহাম্মদ কায়সার নোবেল, ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মিজানুর রহমান এবং জন্মনিবন্ধন শাখার অফিস সহকারী দিদারুল আলম।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দীন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট পেতে যে সব ডকুমেন্টস দরকার তা জনপ্রতিনিধিরা ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সে অনুযায়ী রোহিঙ্গারা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছে।

তিনি বলেন, জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা-ডিএসবি অফিসে তদন্তের জন্য প্রেরিত আবেদনের ফাইলগুলো ঠিকভাবে তদন্ত না করে পাসপোর্ট অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে কারণে বাংলাদেশি হিসেবে পাসপোর্ট পেয়ে গেছে রোহিঙ্গারা। এতে বড় ধরণের অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ মিলেছে।

দুদক কর্মকর্তা আরও বলেন, রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেতে সহযোগিতাকারী হিসেবে পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। যা তদন্তকালে সত্যতা পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ১২টি মামলায় ৫৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। সেখানে চারটির অধিক মামলায় পৌর কাউন্সিলররা আসামি রয়েছেন।



এই বিভাগের আরও