শিশুরা কষ্টে আছে : মাদার তেরেসা

আসাদুল্লাহ বাদল

11 Feb, 2020 02:58pm


শিশুরা কষ্টে আছে : মাদার তেরেসা
মাদার তেরেসা

এই শিশুটি আমার পিছু পিছু ঘুরঘুর করছে। বাচ্চা মেয়েটির বয়স নিশ্চয়ই তিন কি চার বছর। আমার মনে হয় তাকে যখন আনা হয় তখন তার অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডির সাথে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আসার পর আবিষ্কার হল যে, এক মিলিয়নেরও বেশি শিশুর বেশিরভাগই  যত্নআত্তি না পেলে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়বে।

কারণ তারা ভয়ঙ্করভাবে অপুষ্টিতে ভুগছিল। তারপর সল্টটেক ও বারাসাত থেকে যেসব শিশুর অবস্থা খুবই খারাপ আমরা তাদের নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিই। এ অবস্থা কাটিয়ে উঠার জন্য তাদের বিশেষ সেবাযত্ন প্রদান করি এবং সম্ভাব্য সকল দিক দিয়ে সহযোগিতা করি। 

আমার বিশ্বাস এ শিশুরা এমন একটি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও এখন পর্যন্ত তাদের মধ্যে কেউ মরেনি। কারণ ডাক্তার ও নার্স উভয়ই শিশুদের এ দুরবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের যদি শরনার্থী শিবিরে ফেলে রাখা হতো সম্ভবত তারা মৃত্যুর মুখে পড়ত।

এটি এখনও থামানো যায়নি কারণ আমরা একটার পর একটা নতুন ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছি। হয়তো লক্ষ্য করবে যে অনেক বেশি যত্ন ও আদর করা ছাড়া শিশুগুলো হাসছে না।

সিনেটর কেনেডির সঙ্গেই ভারতে আগত পুষ্টিবিশারদ মহোদয় ঘোষণা করেছেন যতক্ষণ পর্যন্ত শিশুদের জন্য খাবার না পাচ্ছি, বিশেষ করে প্রোটিনযুক্ত খাবার, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের ব্যাপক ঝুঁকি রয়েছে।

সুতরাং আমরা সব জায়গা থেকে প্রোটিন বিস্কুট পাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। ছয় মাস বয়সী যেকোন শিশু এটি খেতে পারে।

নোট : ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে সাংবাদিক খগেন দে, সুধীন্দ্রনাথ চৌধুরী ও অমিতা মালিক মাদার তেরেসার সাক্ষাতকারটি নেন। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুয়ারি ‘ভারতীয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিষদ’ ২৬ জনের জবানবন্দি বই আকারে প্রকাশ করেন। এতে ভূমিকা লেখেন ৭০ বছর বয়সী ফরাসি দার্শনিক আঁদ্রে মালরো। তরজমা : রায়হান রাজু। যোগফল পাঠকদের ‘একাত্তর’ ধারণ করার ক্ষুদ্র চেষ্টায় নিবেদিত। [২২]


বিভাগ : শিকড়