২০৩ বছরের অগ্রযাত্রায় তিন বছর পথ চলেছে ‘যোগফল’

আসাদুল্লাহ বাদল

17 Apr, 2021 04:24pm


২০৩ বছরের অগ্রযাত্রায় তিন বছর পথ চলেছে ‘যোগফল’
ছবি প্রতীকী

২০১৮ খ্রিস্টাব্দের ১৭ এপ্রিল মুজিব নগর দিবসে দৈনিক যোগফল আবির্ভাব সংখ্যা প্রকাশ হয়। ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে প্রথম বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশ হয়। হিসাব মতে ২০০ বছর পূর্ণ হওয়ার এক মাস আগে ‘যোগফল’ বাংলা সংবাদপত্রের অগ্রযাত্রায় শামিল হয়। ২০৩ বছর পার করছে বাংলা সংবাদপত্র।

১০০ বছর পরে ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে বাংলা সংবাদপত্রের ইতিহাসে শামিল হয় ‘সওগাত’। মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সওগাত প্রকাশ করেন। সম্পাদনাও করেন। এসব হিসাবের খাতায় যোগফল আদৌ কোন ভূমিকা রাখতে পারবে কিনা এটি নিশ্চিত করবে পাঠক ও সময়। তবে তিন বছরে যোগফল গাজীপুরের জনমনে সামান্য অবস্থান করতে পারার কারণেই ফেসবুক পেজে ৩ লাখ ৮১ হাজার অনুসারী যোগ করতে পেরেছে। অনুসন্ধানী খবরগুলো বিশেষ মহলকে নড়াচড়া করাতে পেরেছে।

সংক্রামক ব্যাধি হিসাবে গণ্য মহামারি ‘করোনা’ এক বছর সাড়ে চার মাস যাবত বিশ্বের মানুষকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। ক্ষুদ্র প্রয়াস হিসাবে যোগফল মহামারিতে আক্রান্ত কোন রোগীর নাম পরিচয় ছবি প্রকাশ করেনি। তবে, বিদেশের অনেক মিডিয়া সে দেশের আইন ও রোগীর অনুমতি সাপেক্ষে পরিচয় প্রকাশ করেছে। ওই রকম খবর প্রকাশ করেছে যোগফল। প্রথম দিকে, বিশেষত ২০২০ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাস পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম পরিচয়ও প্রকাশে বিরত ছিল কিছু মিডিয়া। পরে সেটি আর রক্ষা হয়নি। মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম পরিচয় প্রকাশের কৈফিয়ত দিয়ে যোগফলও লাশের খবর প্রকাশ করে। তবে এখনও আক্রান্ত রোগীর নাম পরিচয় প্রকাশ বন্ধ রয়েছে। এটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

দৈনিক যোগফল প্রকাশ হওয়ার ছয় মাস পরেই চালু হয় ডিজিটিাল নিরাপত্তা আইন। আইন প্রণয়নের সময় থেকেই সাংবাদিকরা এর বিরোধীতা করে। আশঙ্কা করা হয় আইনটির ফলে হয়রানির শিকার হবে সাংবাদিক সমাজ। তিন বছর পরে এটি প্রমাণ করার দরকার নেই। ওই আইনে হয়রানি ও চরম ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে সাংবাদিকরা। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ব্যবহারই একরকম অপব্যবহার। এর চূড়ান্ত উদাহরণ হচ্ছে সংবাদ প্রকাশ করার আগেই দৈনিক যোগফল সম্পাদক ও প্রকাশক অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ বাদল এর নামে একটি মামলা দায়ের। ওই মামলার সময় ও মামলায় দেখানো অজুহাত আইন সম্মত নয়। আইনের ৪০ ধারার বিধান মতে তদন্ত শেষ করার শেষ সময় ১০৫ দিন হলেও ১০ মাস ১৭ দিনেও তদন্ত শেষ করা হয়নি। ওই মামলায় অভিযুক্ত অপর তিন সাংবাদিক মো. মোজাহিদ, রুকনুজ্জামান খান ও মিলন শেখ পুলিশের অভিযোগ সেলে দরখাস্ত দাখিল করেছে। অভিযোগকারীরা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি, তাদের অভিযোগ তদন্ত হচ্ছে কি না।

মামলা দায়েরের প্রকৃত পদ্ধতি ও বানোয়াট অভিযোগ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার ঘটেছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে। এই অপব্যবহার প্রথম থেকেই বন্ধ চেয়েছি। এখনও দাবি বদলাইনি। আগেও ২০০৬ সালের তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার খড়গ ছিল সাংবাদিকসহ মুক্তবুদ্ধির মানুষের উপর। তখনও একই দাবিতে ছিলাম।

যোগফল প্রকাশের শুরুতেই একটি বানোয়াট সাধারণ ডায়রি (জিডি) দায়ের করে একজন দুর্নীতি প্রবণ ব্যক্তি। ওই জিডি তদন্ত শেষে খারিজ হয়। সংবাদ প্রকাশের ১০ মিনিটেও গোপন অডিট বন্ধের দৃষ্টান্ত রয়েছে। সংবাদ প্রকাশের জেরে বেশ কয়েকটি সাজানো মামলা খারিজ হয়েছে। এসবেও জেদ ধরে আরও অভিযোগ দায়ের হয়েছে। হুমকির ঘটনাও ঘটেছে। কেন সংবাদ প্রকাশ করা যায়নি, ওই ব্যাখ্যাও প্রকাশ করা হয়েছে। কেবল হুমকিগুলো যোগফল মর্গে রেখে দেওয়া হয়েছে আরও কোন খবরের উপাদান হিসাবে।

মিতব্যয়ী শব্দ ও জেন্ডার বৈষম্য রোধে যোগফল শুরু থেকেই চেষ্টা চালাচ্ছে। এই চেষ্টা থাকবে অবিরাম। নারী শিশু আইন ও শিশু আইনের বিধান মেনে চলার ক্ষেত্রে যোগফল অবিরাম চেষ্টা চালায়। ব্ল্যাকআউট মেন্যুতে খবর প্রকাশের ফলে উচ্চ আদালতে দৃষ্টান্ত হতে পেরেছে যোগফল।

পাঠক যখন কাগজটি হাতে পাবেন, তখন আমাদের যাত্রা শুরু চার বছরের। আলোচনা, সমালোচনা, পরামর্শ দিতে পারবেন আগের মতোই। আমাদের সঙ্গেই থাকুন। মানুষ কেন্দ্রিক ও মানুষের জন্য সংবাদ প্রকাশে আমাদের অবস্থান একই বিন্দুতে। সংবাদ প্রকাশ বন্ধ হলেও আমরা জনপ্রিয়তার জন্য লুটিয়ে পড়বো না।

প্রথম বছরের মতোই চতুর্থ বছরের শুভেচ্ছা। অভিনন্দন।



এই বিভাগের আরও