‘মোসারাতের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করছে’

যোগফল রিপোর্ট

30 Apr, 2021 05:50am


‘মোসারাতের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করছে’
সায়েম সোবহান আনভীর

গুলশানে কলেজশিক্ষার্থী মোসারাত জাহান মুনিয়ার ‘আত্মহত্যার প্ররোচনা’র মামলায় যাদের নাম এসেছে তাদের সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। তাদের জবানবন্দিসহ তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত সম্পন্ন করা হবে। প্রাথমিকভাবে অনেককে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ চক্রবর্তী। 

বৃহস্পতিবার [২৯ এপ্রিল ২০২১] নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এরমধ্যে অনেকের নাম এসেছে। এজাহারেও অনেকের নাম রয়েছে। এই ঘটনায় তাদের কী ধরনের কর্মকাণ্ড ছিল তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাদের নাম এসেছে তাদের আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করবো। আমরা প্রাথমিকভাবে অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি।

তথ্য নিচ্ছি। ১৬১ বা প্রাসঙ্গিক বক্তব্য আদালতে ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করার ব্যবস্থা করবো।

এই মামলায় পুলিশ তৎপর রয়েছে জানিয়ে উপ-কমিশনার সুদীপ চক্রবর্তী বলেন, পুলিশের তৎপরতার কারণেই মামলাটি এই পর্যায়ে এসেছে। এটি অপমৃত্যু মামলা হতে পারতো। একটি প্রতিশ্রুতিশীল মেয়ে যার বয়স মাত্র ২১ বছর, সে  কোনো কারণ ছাড়াই এভাবে আত্মহত্যা করতে পারে না। সেদিন খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আমরা সেখানে ছুটে যাই। দেওয়ালে অভিযুক্তের সঙ্গে মেয়েটির ছবি দেখে আমরা মনে করেছি, এর মধ্যে বড় ধরনের কোনো প্ররোচনা রয়েছে। এই আশঙ্কা থেকেই মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা নেয় পুলিশ। মোসারাতের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রণোদিত ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করছে। ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে, ভিকটিমের পরিবারকে নিরাপত্তা যদি দিতে হয়, এক্ষেত্রে যা যা করা দরকার পুলিশ তা করবে।

মুনিয়ার লাশ উদ্ধার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। পরে বিছানায় শুয়ে রাখা হয়। সুরতহাল করার সময় তার প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আমাদের নারী পুলিশের সহযোগিতায় পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। রশির কারণে তার গলায় ক্ষত চিহ্ন ছিল। দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকার কারণে হাতের তালু, পায়ের তালু কালো বর্ণ ধারণ করে। এর বাইরে আমরা কিছু বলতে পারি না। যারা পোস্টমর্টেম করছেন তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করবো।

ঘটনার কয়েকদিন আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই বাসায় গিয়েছিলেন জানিয়ে সুদীপ চক্রবর্তী বলেন, আমরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ঘটনার দিন বা আগের দিন অভিযুক্তের কোনো দৃশ্য সেখানে পাইনি। ওই বাসায় যাওয়ার প্রমাণ পেয়েছি তবে সেটা ২৬ এপ্রিলের আগে।

গুলশানের ওই বাসা থেকে উদ্ধার করা ছয়টি ডায়েরি সম্পর্কে তিনি বলেন, মানসিক কষ্ট, হতাশা থেকে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা ডায়েরিতে লেখা রয়েছে। পরের দিন তাকে দেখে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুল বুঝতে পারবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে। মানসিক বিপর্যয়ের কারণে সে আত্মহত্যার মতো কাজটা বেছে নেয়। এতে গভীর পরিণতির কথা লিখেছে সে। সেখানে সে একটা ইঙ্গিত দিয়েছে। অভিযুক্ত বিবাহিত, তার স্ত্রী রয়েছে, সন্তান রয়েছে। সবমিলিয়ে সম্পর্কের সামাজিক স্বীকৃতি নিয়ে ভিকটিমের মনে কষ্ট ছিল।

মুনিয়ার ছয়টি ডায়েরির লেখা সম্পর্কে উপ-কমিশনার সুদীপ চক্রবর্তী বলেন, তাদের সম্পর্ক নিয়ে অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব। বিভিন্ন সময়ে তাদের সম্পর্কের যে টানাপড়েন, সম্পর্কের স্বীকৃতির যে বিষয়গুলো, যেভাবে তারা চলছিল, স্বীকৃতির প্রতি মুনিয়ার যে প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল। এগুলো নিয়ে বিভিন্ন ধরনের হতাশা বা বিভিন্ন ধরনের মনোকষ্ট, আমরা ডায়েরির লেখায় লক্ষ্য করেছি।

সরাসরি স্সুাইডাল নোটে যে রকম বর্ণনা থাকে এখানে কিন্তু সেভাবে নেই। বিভিন্ন দিনের ঘটনাপ্রবাহ থেকে সৃষ্ট আনন্দ, বেদনা, কষ্ট সবই কিন্তু এখানে লেখা রয়েছে। ডায়েরির লেখা তদন্ত সহায়ক হবে। আমরা ডায়েরি উদ্ধার করে ঘটনার সঙ্গে যা প্রাসঙ্গকি তা খুঁজে বের করেছি। ডায়েরির পাতায় পাতায় লেখা রয়েছে। এসব বিষয় আমরা পর্যালোচনা করছি। হস্তরেখা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে তার লেখা যাচাই করা হবে বলে জানান তিনি।

উপ-কমিশনার সুদীপ চক্রবর্তী বলেন, ভাইরাল হওয়া একটি ভয়েসে ৫০ লাখ টাকার যে প্রসঙ্গ এসেছে তা অনেক টাকা। এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদের হিসাব নেওয়া হবে। আমরা লেনদেন দেখছি। অভিযুক্ত বর্তমানে দেশেই রয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযুক্তের দুইটি পাসপোর্ট রয়েছে। ইমিগ্রেশনের যে ডাটাবেজ সিস্টেম রয়েছে তা থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে দুই পাসপোর্ট ব্যবহার করে ২৬ বা ২৭ এপ্রিলে কেউ দেশ ত্যাগ করেনি।

তবে তার পরিবার বৃহস্পতিবার দেশ ত্যাগ করেছে বলে খবর চাউর হয়েছে।


বিভাগ : আড়চোখ


এই বিভাগের আরও