ইদে ১০ দিনের ছুটি দাবি, টঙ্গী রণক্ষেত্র, ১৩ শ্রমিক গুলিবিদ্ধ, পুলিশসহ আহত অর্ধশত

মো. আনোয়ার হোসেন

10 May, 2021 05:23pm


ইদে ১০ দিনের ছুটি দাবি, টঙ্গী রণক্ষেত্র, ১৩ শ্রমিক গুলিবিদ্ধ, পুলিশসহ আহত অর্ধশত
ছবি : সংগৃহীত

ইদে বর্ধিত ছুটির দাবিতে টঙ্গীতে হামীম শিল্প গোষ্ঠীর ক্রিয়েটিভ কালেকশন লিমিটেড কারখানার আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে টঙ্গী শিল্প এলাকার মিল বাজার শহিদ সুন্দর আলী সড়কে ক্রিয়েটিভ কালেকশন লিমিটেড কারখানা ও আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। 

এতে ৫ পুলিশ সদস্যসহ অর্ধ শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। শ্রমিক নেতা আরমান হোসাইন যোগফলকে জানিয়েছেন সোমবার বিকালে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ হবে

তাদের মধ্যে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত ১৩ শ্রমিককে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তারা হলেন: মামুন (২৭) পিতা রেহান উদ্দিন, রবি (২১) পিতা রমজান আলী, লতিফ (১৯) পিতা কামাল উদ্দিন, ইমরান (১৯) পিতা কবির হোসেন, রুবেল (২৪) পিতা নজরুল, রুবেল (২২) পিতা চাঁন মিয়া, রনি (২২) পিতা রমজান আলী, এহসানুল হক (৩৫) পিতা আবুল কাশেম, রাজীবুল (২৫) পিতা জাকির হোসেন, হাসান (২৫) পিতা মিন্টু মিয়া, হাসিনা (৪০) স্বামী মিজানুর রহমান, সাব্বির (২২) পিতা ছিরু মিয়া, ও সাবিনা (২৫) স্বামী হানিফ। 

সংঘর্ষে গুরুতর আহত পুলিশের সিটি এসবি শাখার এএসআই রুবেলকে (৩০) টঙ্গীর শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনালের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের ওই হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। 

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, তারা আরও আগে থেকেই আসন্ন ইদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ১০ দিনের ছুটির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ৭ দিনের ছুটি দিতে রাজি হয়। 

পরে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে শ্রমিকরা ১০ দিনের ছুটি ভোগ করার জন্য বিগত দুইটি বন্ধের দিন কাজ করেন। ইদের ছুটির মধ্যেই আরও একটি বন্ধের দিন পড়ায় শ্রমিকদের হিসেবে তারা মোট ১০ দিনের ছুটি প্রাপ্ত হন। কিন্তু সোমবার [১০ মে ২০২১] সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগদান করতে এসে জানতে পারেন, তাদের ৭ দিনেরই ছুটি দেওয়া হচ্ছে। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে শ্রমিকরা কল বন্ধ রেখে ১০ দিনের ছুটির দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন। 

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইলতুৎ মিশ জানান, অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় কারখানায় পুলিশ মোতায়েন করা হলে শ্রমিকরা পুলিশের সাথে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ শুরু করে। এক পর্যায়ে সকাল এগারোটার দিকে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ ফাঁকায় শর্টগানের গুলি বর্ষণ করে। শ্রমিকদের হামলায় শিল্প পুলিশের একজন এএসপিসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন বলে তিনি দাবি করেন। 

এদিকে সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে পুলিশের ব্যাপক কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেটের মুখে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে বেলা পৌনে একটায় শ্রমিকরা পুনরায় একত্রিত হয়ে স্থানীয় মিলগেট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-ময়নসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে। শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে হটাতে পুলিশও আরও শক্তি বৃদ্ধি করে। একপর্যায়ে বেলা সোয়া একটায় কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও শর্টগানের গুলি বর্ষণ করে পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে পুলিশ প্রহরায় যানবাহন চলাচল শুরু হলে বেলা দেড়টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। 

টঙ্গীর শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনালের হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার মাসুদ রানা জানান, পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষের ঘটনায় সোমবার বেলা দেড়টা পর্যন্ত ১৯ জনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে বুলেটবিদ্ধ ১৩ জন শ্রমিককে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। পুলিশের একজন অফিসারকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আহত শ্রমিকদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ (রাবার বুলেট) বলে তিনি জানান। এছাড়া আহত নারী শ্রমিকদের বেশির ভাগই কাঁদানে গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এদিকে ইদ বোনাস, বকেয়া বেতন ও বর্ধিত ছুটির দাবিতে টঙ্গীর সাতাইশ এলাকার তামিশনা গার্মেন্ট কারখানায়ও শ্রমিক অসন্তোষ বিরাজ করছে। কারখানাটির আন্দোলনরত শ্রমিকরা সোমবার কর্মবিরতি পালন করে। পরে কর্তৃপক্ষের সাথে সফল আলোচনার পর বিকেল তিনটায় তারা কাজে যোগ দেন।


বিভাগ : উপজীব্য


এই বিভাগের আরও