জুয়ার অ্যাপস দিয়ে শতকোটি টাকা পাচার

যোগফল প্রতিবেদক

20 May, 2021 07:52am


জুয়ার অ্যাপস দিয়ে শতকোটি টাকা পাচার
ছবি : সংগৃহীত

নাটোরের অনামিকা সরকার (২৪)। পড়াশোনা করেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে। সেখানে থাকতেই রোকন উদ্দিন সিদ্দিকীর সঙ্গে পরিচয়। এরপর তারা হঠাৎ কাউকে কিছু না জানিয়ে পরিবারের অজান্তে বিয়ে করেন। পরে পালিয়ে ঢাকার বনশ্রীতে বাসা ভাড়া নিয়ে শুরু করেন অন্ধকারের জীবন। বিশেষ পদ্ধতিতে স্মার্টফোনের মাধ্যমে বিশেষ একটি জুয়ার অ্যাপ ব্যবহার করে চলতো তাদের অবৈধ জুয়ার ব্যবসা। দেশে জুয়া খেলার এই অনলাইন অ্যাপটি নিষিদ্ধ। তবে বিশেষ পদ্ধতিতে স্মার্টফোনের মাধ্যমে এই জুয়ার অ্যাপ ব্যবহার করতো তারা।

এখন পর্যন্ত এই অ্যাপের ব্যবহারে অল্পসংখ্যক ব্যক্তি জড়িত থাকলেও না বুঝে ব্যবহার করছেন লক্ষাধিক ব্যক্তি। ওই অ্যাপে জুয়া খেলতে প্রয়োজন হয় ডিজিটাল কারেন্সি এবং ‘জেমস’। এর মাধ্যমে দেশ থেকে প্রতি মাসে বিদেশে পাচার হচ্ছে শতকোটি টাকা। বছরে যার পরিমাণ হাজার কোটিরও বেশি অর্থ। গত দেড় বছরে অনামিকা-রোকন দম্পতির নেতৃত্বে নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক একাউন্টে এখন পর্যন্ত প্রায় কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পেয়েছে এটিইউ। পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অনামিকাসহ চারজন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় খবর পেয়ে পালিয়ে যায় জুয়া চক্রের অন্যতম হোতা অনামিকার স্বামী রোকন।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষ একটি অ্যাপ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে মুদ্রা পাচার করে আসছিল। ওই অ্যাপে গ্রুপ চ্যাট, লিপ সিং, ড্যান্স, গল্প, কবিতা আবৃত্তিসহ বিভিন্ন ধরনের অনলাইন জুয়া খেলার অপশন রয়েছে। দেশে যেটা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে এসব প্রতারণা ও ডিজিটাল মুদ্রা পাচার রোধে গোয়েন্দা নজরদারি, তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। 

ওই অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে মুদ্রা পাচার করছে একটি চক্র। সম্প্রতি ঢাকার বনশ্রী, ঢাকার সাভার এবং নোয়াখালীর সুধারামপুর থেকে জমির উদ্দিন, মো. হোসেন রুবেল, মনজুরুল ইসলাম হৃদয় এবং অনামিকা সরকারসহ মোট চার মাস্টারমাইন্ডকে গ্রেপ্তার করেছে এটিইউ। প্রতারক চক্রটির চার সদস্য এবং তাদের পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে সাভার থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। 

সূত্র আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশে এই অ্যাপের মোট ১১ জন এজেন্ট রয়েছে। তারাই ডিজিটাল (ভার্চ্যুয়াল) কারেন্সির ক্রয়-বিক্রয় করে থাকে। লক্ষাধিক ব্যবহারকারী বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হুন্ডি, ক্রিপ্টো কারেন্সি ক্রয় করে থাকেন।

এ বিষয়ে এটিইউ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান বলেন, এই অ্যাপটিতে দুই ধরনের আইডি রয়েছে। ইউজার আইডি এবং হোস্ট আইডি। ব্যবহারকারীরা কমবয়সী তরুণ-তরুণী সাধারণত সেলিব্রেটি এবং নারীদের সঙ্গে আড্ডা দিতে এই অ্যাপটি ব্যবহার করে। সুন্দরী নারী এবং সেলিব্রেটিরাই সাধারণত এই এজেন্সির মাধ্যমে হোস্ট আইডি খোলেন। বিদেশি এই অ্যাপটির অ্যাডমিনদের কাছ থেকে ‘বিন্স’ কিনে ইউজারদের কাছে বিক্রি করেন। এই বিন্সও এক ধরনের ডিজিটাল কারেন্সি। এ ছাড়া এই অ্যাপসে জেমস নামেও এক ধরনের ডিজিটাল কারেন্সি রয়েছে। প্রতি এক লাখ বিন্সের মূল্য এক হাজার ৮০ টাকা এবং প্রতি এক লাখ জেমসের মূল্য প্রায় ৬০০ টাকা।

ব্যবহারকারীরা আয়োজকদেরকে গিফট হিসেবে বিন্স প্রদান করে থাকেন। যেটা তাদের কাছে এলেই জেমসে পরিণত হয়। সঞ্চিত জেমসের পরিমাণের ওপরই নির্ভর করে হোস্টদের (আয়োজক) আয়। 

এছাড়া তাদের একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লাইভ স্ট্রিমিংয়ে থাকতে হয়। তিনি বলেন, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ভাবে লোভনীয় অফার দিয়ে লাইভ স্ট্রিমিংয়ে এনে ইউজারদের সঙ্গেও প্রতারণা করা হয়।


বিভাগ : ভার্চুয়াল


এই বিভাগের আরও