শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টারসহ নয় ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পদক প্রদান

যোগফল প্রতিবেদক

21 May, 2021 08:35am


শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টারসহ নয় ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পদক প্রদান
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অর্জন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রেখে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, দেশের মানুষ যেন আরও সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে, সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পিতা বঙ্গবন্ধুর মতো আমার কাছেও আমার দেশের মানুষ ও দেশের মাটি, এটাই বড় শক্তি। ভবিষ্যতে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের একটি কাঠামো করে দিয়ে যাচ্ছি, যাকে ধরে আগামী প্রজন্ম দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। দেশের ৫০ বছরপূর্তিতে আজকে আমরা যতদূর এগোতে পেরেছি, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যেই অর্জনটুকু করতে পেরেছি, সেটুকু ধরে রেখে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

দেশের উচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়া বিশিষ্টজনদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এটাই চাই যে, আপনাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। স্ব স্ব কর্মস্থানে তারা নিশ্চয় তাদের মেধা, মননে যোগ্য একটা অবস্থান করে নেবে এবং দেশ ও জাতির জন্য তারা কিছু অবদান রেখে যাবে। আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি, কাজেই আমরা সব সময় বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলব। কারো কাছে হাত পেতে নয়, করুণা বা ভিক্ষা করে নয়; বাংলাদেশকে আমরা আত্মমর্যাদাশীল হিসেবে গড়ে তুলব।

প্রধানমন্ত্রী একাত্তরে জাতির মহান আত্মত্যাগের কথা পুনরায় কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে দৃপ্তকণ্ঠে বলেন, এত রক্ত, এত ত্যাগ কোনদিনও বৃথা যেতে পারে না। একে আমরা বৃথা যেতে দিতে পারি না। আমরা একে বৃথা যেতে দেব না। অদৃশ্য শত্রু করোনাভাইরাসে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তিনি পুনরায় বলেন, দেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে সেটা যেন এগিয়ে যেতে পারে সেজন্য সকলে দোয়া করবেন এবং কাজ করবেন এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন এই দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

বৃহস্পতিবার [২০ মে ২০২১] স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২১ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি নয় বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে দেশের উচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২১ এ ভূষিত করেন। জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তার সরকারী বাসভবন গণভবনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে আয়োজিত অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মাঝে এ পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় এবার চারজন স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন। তারা হলেন: আওয়ামী লীগ নেতা এ কে এম বজলুর রহমান, শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টার, প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খুরশিদ উদ্দিন আহমেদ ও আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন ডক্টর মৃন্ময় গুহ নিয়োগী। সাহিত্যে কবি মহাদেব সাহা, সংস্কৃতিতে নাট্যজন আতাউর রহমান ও চলচ্চিত্রকার-সুরকার-গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন। ‘সমাজসেবা ও জনসেবা’ ক্ষেত্রে অধ্যাপক ডাক্তার এম আমজাদ হোসেন এবং প্রতিষ্ঠান হিসেবে এবার গবেষণা ও প্রশিক্ষণে স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল।

অনুষ্ঠানে বজলুর রহমানের পক্ষে তার স্ত্রী শাহানারা বেগম, প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর পক্ষে তার সন্তান ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের পক্ষে তার সন্তান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খুরশীদ উদ্দিন আহমেদের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন পুরস্কার গ্রহণ করেন। জীবিতদের মধ্যে কবি মহাদেব সাহার অনুপস্থিতিতে তার সন্তান প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নেন। মৃন্ময় গুহ নিয়োগী, আতাউর রহমান, গাজী মাজহারুল আনোয়ার এবং আমজাদ হোসেন নিজে উপস্থিত থেকে পুরস্কার নেন। কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহি পরিচালক পুরস্কার গ্রহণ করেন।

সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ পুরস্কার প্রদান করে এলেও এবার করোনার কারণে বিলম্ব হয়। স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রাম স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেয়া হয়।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত এই পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এবং তিনিই পুরস্কার বিজয়ীদের সাইটেশনও পাঠ করেন। পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে দেশের বিশিষ্ট নাট্যজন আতাউর রহমান নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে আক্ষেপ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর মুক্তিযুদ্ধের সকল অর্জনকে ‘ব্যর্থ করে দেওয়ার’ চেষ্টা চালানো হয়েছিল, জাতির পিতার নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা হয়েছিল। আমি জানি না, একটা স্বাধীন জাতি বা স্বাধীন দেশের নাগরিক, যারা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে, তারা কীভাবে আবার পরাজিত শক্তির পদলেহন করতে পারে? এটা আমি ভাবতেও পারি না। সেই অবস্থাতেই বাংলাদেশকে কিন্তু নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আজকে এটুকু বলতে পারি, যেটা আমার সব সময় একটা প্রচেষ্টা ছিল যে, আমরা স্বাধীন জাতি, আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি। কাজেই আমরা সব সময় বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলব।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি প্রতিবছর ‘হাতে গোনা’ কয়েকজনকে সরকার পুরস্কৃত করতে পারলেও সমাজের আরও অনেককে তাদের অবদানের জন্য সম্মান জানানো উচিত বলে মত প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আনাচে-কানাচে মনি-মুক্তার মতো অনেক প্রতিভা ছড়িয়ে রয়েছে এবং যার খুব কম সংখ্যক লোককে এখন পর্যন্ত সম্মাননা জানানো সম্ভব হয়েছে। সমাজের বহু ক্ষেত্রে অনেক অবদান তারা রেখে যাচ্ছেন। আমাদের সমাজে অনেকে রয়েছে যাদেরকে আমাদের পুরস্কৃত করা উচিত। তাদের পুরস্কৃত করতে পারা মানে আমরা আমাদের জাতিকে পুরস্কৃত করা, নিজেদের পুরস্কৃত করা।

পদকপ্রাপ্ত গুণীজনদের সামনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তত আপনাদের (স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত) কাছ থেকে তারা (তরুণরা) উৎসাহ পাবে। দেশের জন্য, জাতির জন্য, জাতির কল্যাণের জন্য তারা কাজ করবে। দেশের মানুষ যাতে সুন্দরভাবে, মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে, সরকার সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে আমরা যতটুকু এগোতে পেরেছি, ৫০ বছরপূর্তিতে। আমি বলব উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যেই অর্জনটুকু করতে পেরেছি, সেটুকু ধরে রেখে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। তিনি বলেন, এমনিতে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের আগেরদিন বড় আয়োজন করে সকল গুণীজনকে আমন্ত্রণ জানিয়ে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হলেও এবার করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার বাধ্যবাধকতার কারণে সীমিত পরিসরে এ অনুষ্ঠান করতে হয়েছে।

আগামী প্রজন্মের জন্য তার সরকারের প্রণীত ১০০ বছরের মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বলেন, ২০৪১ সাল পর্যন্ত কী করণীয়, স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপনকালে ২০৭১ সালে বাংলাদেশ কোথায় যাবে বা ২১০০ সাল এ বদ্বীপ অঞ্চলের বাসিন্দারা যেন এক সুন্দর জীবন পেতে পারে তারও একটা পরিকল্পনা করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, লক্ষ্য যদি স্থির থাকে তাহলে এগিয়ে চলা সম্ভব। সেজন্য যতটুকু পারি আমরা করে দিয়ে যাচ্ছি। এতে আমারদের পরের প্রজন্ম যারাই আসবে তারা যেন উন্নয়নের গতিধারাকে অব্যাহত রাখতে পারে। তিনি বলেন, এই কাঠামোটা সময়ের বিবর্তনে পরিবর্তনশীল। কারণ যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়েই সকলকে চলতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি, বিজ্ঞানের বিকাশ, নব নব উদ্ভাবন আমাদেরকে নতুন করে পথ দেখাবে। যার সঙ্গে তাল মিলিয়েই চলতে হবে।

যে আদর্শ নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল ’৭৫ এর পর তা হারিয়ে গেলেও তার সরকার সেই আদর্শকে আবারও ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নতুন প্রজন্ম এখন ইতিহাসকে জানতে চায়। শিকড়ের সন্ধান করে বিজয়ের কথাটা চিন্তা করে নিজেদেরকে গর্বিত মনে করে-এই ধারা অব্যাহত থাকলে অবশ্যই বাংলাদেশ সারাবিশে^ উন্নত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে এবং জাতির পিতার স্বপ্ন আমরা পূরণ করতে সক্ষম হব।

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে দেখিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন সাংবাদিক এবং গণমাধ্যমের অনেকে জাতির পিতাকে প্রশ্ন করেছিলেন- এখানে তো কিছুই নেই, আপনি কি করে দেশ গড়বেন? জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- আমার মাটি আছে, মানুষ আছে। আমি এদেরকে দিয়েই বাংলাদেশ গড়ে তুলব। বঙ্গবন্ধুকন্যা বিষয়টি অনুষ্ঠানে উল্লেখ করে বলেন, আমিও বিশ্বাস করি, আমাদের দেশের মানুষ এবং মাটি এটাই আমাদের বড় শক্তি এবং আমরা সে প্রচেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছি।

বাংলাদেশকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে আসতে অনেক ঘাতপ্রতিঘাত তাঁকে অতিক্রম করতে হয়েছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বলেন, গত ৪০ বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অন্তত এটুকু করতে পেরেছি যে, দেশের মানুষ আরও সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে। বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার ৫০ বছর যখন আমরা উদযাপন করছি তখনই এই স্বীকৃতিটা আমরা পেলাম।

তার সরকার যখনই দেশ পরিচালনায় এসেছে তখনই মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে, যে সম্মান ’৭৫ এর পর ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস থেকে জাতির পিতার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। জাতির পিতাকে হত্যার পর এমন একটা সময় এসেছিল যে কেউ নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দেয়ার সাহস পেত না। মনে হতো সেটা যেন বেশ অপরাধের ব্যাপার ছিল, অথচ জাতির পিতার ডাকে মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন তারা সবকিছু ফেলে চলে গিয়েছিলেন। তাদের পরিবার-পরিজনও নানাভাবে কষ্ট পেয়েছে।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা যেন বংশপরম্পরায় সম্মানটা পায় সেজন্য আমার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি। মুক্তিযোদ্ধার অনেকেই আজকে বেঁচে নেই কিন্তু তাদের পরিবার রয়েছে, তাঁদের ঘর করে দেওয়া থেকে মাসোহারার ব্যবস্থা করাসহ নানাভাবে আমরা সহযোগিতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি মনে করি : সেদিন জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে যারা হাতে অস্ত্র তুলে নিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন, তাঁরা যদি সেই সাহসটা না দেখাতেন তাহলে আমরা স্বাধীনতা পেতাম না, হয়ত সব ব্যর্থ হয়ে যেত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু একটি বৈরী পরিবেশ থেকে সমগ্র জাতির মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সঞ্চারিত করে জাতিকে রক্তস্নাত বিজয় এনে দেন। এ সময় তিনি জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের উদাত্ত আহ্বান ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’-এর উল্লেখ করে বলেন, এই বাণী যেন বাঙালীর হৃদয়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনুপ্রাণিত হলো এবং প্রত্যেকটা জাতি জেগে উঠল, যার যা কিছু ছিল তাই নিয়েই তারা বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করে আমাদের বিজয় ছিনিয়ে আনল। এ সময় তিনি মিত্রশক্তিকে মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার জন্য আবারও কৃতজ্ঞতা জানান।

বাবা-মা, ভাইসহ পরিবারের সবাইকে হারিয়ে বাংলাদেশের মানুষের ভালবাসাকে শক্তি হিসেবে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করেই তার এই পথচলার কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি তাকে হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের বাধার মুখে ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে দেশে ফেরার স্মৃতিও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য এত রক্ত, এত ত্যাগ কোনদিনও বৃথা যেতে পারে না। একে আমরা বৃথা যেতে দিতে পারি না। আমরা একে বৃথা যেতে দেব না। সূত্র: বাসস।


বিভাগ : দফতর