যুক্তরাজ্যে অভিবাসন নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন

যোগফল ডেস্ক

19 Feb, 2020 12:50pm


যুক্তরাজ্যে অভিবাসন নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন

ব্রেক্সিটের পর অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন আনছে যুক্তরাজ্য। কম দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীরা দেশটির ভিসা পাবেন না বলে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে।

বিবিসি জানায়, ইউরোপ থেকে আসা ‘সস্তা শ্রমিক’ এর ওপর নির্ভর না করে কর্মী ধরে রাখা ও অটোমেশন প্রযুক্তি উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়ার জন্য নিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানান ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।

সার্বিকভাবে যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের আগমন কমানোর চেষ্টায় অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানায় ব্রিটিশ সরকার। নিজেদের নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী একটি ‘পয়েন্টভিত্তিক’ অভিবাসন ব্যবস্থা তৈরি করতে চায় তারা।

নতুন অভিবাসন পরিকল্পনায় আছে, যেসব বিদেশি কর্মী যুক্তরাজ্যে আসতে চায় তাদের ইংরেজি বলতে পারতে হবে এবং ‘অনুমোদিত স্পনসরের’ অধীনে দক্ষতা সম্পন্ন কোনও চাকরিতে নিয়োগ পেতে হবে। তা নিশ্চিত করতে পারলে তারা ৫০ পয়েন্ট পাবে।

দেশটিতে কাজ করার অনুমতি পেতে হলে অভিবাসীদের ৭০ পয়েন্ট নিশ্চিত করতে হবে। যার মধ্যে যোগ্যতা, বেতন ও যেই খাতে কর্মীর অভাব রয়েছে এমন কোনও খাতে কাজ করলেও পয়েন্ট পাওয়া যাবে।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও এর বাইরের যেসব নাগরিক যুক্তরাজ্যে আসতে চায়, তাদের ৩১ ডিসেম্বর ইউকে-ইইউ ফ্রি মুভমেন্ট বন্ধ হওয়ার পর একই মাপকাঠিতে যাচাই করা হবে।

লেবার পার্টি জানায়, নতুন পরিকল্পনার ফলে সৃষ্ট ‘প্রতিকূল পরিস্থিতির’ কারণে শ্রমিক পাওয়া কঠিন হবে।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল বলেন, ‘এই নতুন ব্যবস্থার কারণে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ও শ্রেষ্ঠরাই যুক্তরাজ্যে আসার সুযোগ পাবেন।’

অভিবাসন বিষয়ক পরামর্শ দেওয়া সংস্থা মাইগ্রেশন অ্যাডভাইজরি কমিটির তালিকায় এ মুহূর্তে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, মেডিক্যাল প্র্যাকটিশনার, নার্স, সাইকোলজিস্ট ও ব্যালে নৃত্যশিল্পীদের চাকরির সুযোগ রয়েছে।

নতুন প্রস্তাবের অধীনে, যুক্তরাজ্যে আসা দক্ষ কর্মীর সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়ার বিষয়টি থাকবে না। শ্রমিকের দক্ষতার সংজ্ঞাও পরিবর্তন করা হবে। যারা এ-লেভেল পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে তাদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে, যেটি আগে স্নাতক পর্যায়ে দেওয়া হতো।

তবে দক্ষ শ্রমিকের তালিকা থেকে হোটেল ও রেস্টুরেন্টের ওয়েটারের চাকরি বাদ গিয়ে কাঠমিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি ও দক্ষ শিশু অভিভাবকের পদ যুক্ত হবে।

যুক্তরাজ্যে পড়ালেখা করতে চাইলে বিদেশি ছাত্রদের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়া লাগবে, ইংরেজি জানা লাগবে এবং তারা নিজেরা নিজেদের আর্থিকভাবে সহায়তা করতে পারবে, এমন সক্ষমতা দেখাতে হবে।

যুক্তরাজ্যে আসতে চাওয়া দক্ষ শ্রমিকদের সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার পাউন্ড থেকে নামিয়ে ২৫ হাজার ৬০০ পাউন্ড করা হবে।

এদিকে রয়্যাল কলেজ অব নার্সিং আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে এই প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নে ‘জনগণের স্বাস্থ্য ও সেবার চাহিদা পূরণ হবে না’।

সেবা খাতের সঙ্গে জড়িত ইউনিয়নের সহ-সম্পাদক ক্রিস্টিনা ম্যাকেনা বলেছেন এ ধরনের প্রস্তাব ‘সেবা খাতের জন্য বিধ্বংসী’।

যুক্তরাজ্যের হোমকেয়ার অ্যাসোসিয়েশন কম দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীদের জন্য সুযোগ কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

জাতীয় কৃষক ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট মিনেট ব্যাটার্স ‘ব্রিটেনের খাদ্য ও কৃষি খাতে প্রয়োজনীয়তা’ নির্ণয়ে ব্যর্থ হওয়ায় ‘গুরুতর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন।


বিভাগ : অভিবাসন