শ্রীপুরে মৃত ব্যক্তির নামেও বনবিভাগ মামলা করেছে

মো. মোজাহিদ

07 Mar, 2020 03:09pm


শ্রীপুরে মৃত ব্যক্তির নামেও বনবিভাগ মামলা করেছে

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পৌর এলাকার মুক্ত মঞ্চের সাথে ‘নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’র উদ্যোগে বনের  গেজেট আইন বাতিল ও বন মামলায়  হয়রানির প্রতিবাদে নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে ছয় দফা দাবি উপস্থাপন ও বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।  

শনিবার (৭ মার্চ ২০২০) বিকেল তিনটায় এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও াবকাল পৌনে পাঁচটায় সমাবেশের মূল কার্যক্রম শুরু হয়।

সমাবেশে উপস্থিতদের মধ্যে ৯০ শতাংশই ছিল বন মামলায় হয়রানির শিকার।

নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহবায়ক আনোয়ার হোসাইন'র সার্বিক পরিচালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেছেন অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন শাহীন। রবিউল বিশ্বাসের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন প্রফেসর এমদাদুল হক, সাংবাদিক নেতা শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া, জেলা পরিষদের সদস্য নুরুল ইসলাম শিমুল।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন বাবুল আহমেদ, শাহজাহান, দুলাল মিয়া, সিরাজ উদ্দিন আকন্দ, সালাউদ্দিন ও ময়েজউদ্দিন।

সমাবেশে যে ছয়টি দাবি বাস্তবায়নের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে সেগুলো হলো: ১. শ্রীপুর উপজেলা এলাকায় গেজেট ভূক্ত সকল সম্পত্তির গেজেট বাতিল করতে হবে। 

২. পৈত্রিক সম্পত্তি হওয়া সত্বেও ভুলবশত আরএস দাগ বন বিভাগের নামে রেকর্ড ভূক্ত হওয়া জমিতে স্থাপনা নির্মানে বন বিভাগের বাধা দেওয়া চলবেনা। 

৩. বনের মামলাগুলো (বিতর্কিত) পূনরায় তদন্ত করে মিথ্যা ও হয়রানি মূলক  মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। 

৪. বনের মামলা নথিভুক্ত করার পূর্বে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির অংশগ্রহণে তদন্ত করতে হবে।

৫. টাকার বিনিময়ে সামাজিক বনায়নের বরাদ্দ ও বাড়ি ঘর তৈরির অবৈধ সুযোগ দেওয়া যাবেনা। 

৬. সামাজিক বনায়নের বরাদ্ধ স্থানীয় ভূমিহীন পরিবার ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে দিতে হবে। ভূমিহীন পরিবারের দখলে থাকা খাস জমির স্থায়ী বরাদ্দ দিতে হবে। 

প্রফেসর এমদাদ তার বক্তব্যে আবেগজনিত কন্ঠে তার বক্তব্যে বলেন, গাজীপুর জেলায় ৭৫ শতাংশ জমি গেজেটভুক্ত। এসএ ও সিএস জনগণের নামে। ভুলবশত আরএস হয়েছে বনের নামে। কিন্তু আমার ১৭৬৬ দাগে ৯০ একরের উপরে জমি রয়েছে। এই ৯০ একর জায়গার মধ্যে ২ একর ৭৫ শতাংশ বন বিভাগের। এই ২ একর ৭৫ শতাংশ জায়গার কারণে সরকার ৯০ একর জায়গার ডিমারকেশন দিচ্ছেনা। এই ৯০ একর জমির মধ্যে হাসপাতালে রোগী থাকতে পারে। কারও মেয়ের বিয়ে থাকতে পারে, কেউ কেউ ঋণগ্রস্ত থাকতে পারে! যত সমস্যা-ই হোক এই গেজেট আইনের জন্য নিজের জমি আমার আমিই বিক্রি করতে পারবো না। এমন আজব দেশে-ই আমরা বসবাস করি। 

আমি বন বিভাগের লোকজনকে বলছিলাম আপনাদের অংশ আপনারা নিয়ে যান। এটাই আমার অপরাধ। আর এই অপরাধের কারণে আমার নামে তো মামলা হয়েছে। আমার মৃত বাবার নামেও মামলা হয়েছে। যিনি কবরবাসী তার নামেও মামলা হয়েছে। আল্লাহ উনাকে বেহেশত নসীব করুক, তার নামে পর্যন্ত মামলা হয়েছে। 

আমরা আজব এক দেশে বাস করছি। এসব সমস্যা সমাধান হয়তো আজকের এই পোগ্রামেই হবে-না। আমাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য বাস্তবায়নের পূর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত আমাদের লড়াই করে যেতে হবে। এছাড়াও অন্য ভুক্তভোগীরা তাদের বক্তব্যে ছয় দফা দাবির আলোকে প্রাসঙ্গিক কথা বলেছেন। সর্বশেষ সমাবেশের সভাপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।


বিভাগ : উপজীব্য


এই বিভাগের আরও