মানবজীবনের প্রকৃত সফলতা, হেদায়েত ও মুক্তির পথ হলো মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণ করা। একজন মুসলমানের প্রতিটি কাজ, কথা, আচরণ ও ইবাদত প্রিয় নবী (সা.)-এর আদর্শ অনুযায়ী পরিচালিত হওয়াই ইসলামের শিক্ষা। তিনি যেভাবে নামাজ আদায় করেছেন, যেভাবে জীবনযাপন করেছেন এবং মানুষের সঙ্গে আচরণ করেছেন, মুসলমানদেরও সেভাবেই চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পবিত্র কোরআনের সূরা আলে ইমরানের ৩১ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে নবী! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তবে আমার অনুসরণ কর। তাহলে আল্লাহও তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।”
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, আল্লাহর ভালোবাসা লাভের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণ করা। যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে নবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করবে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসবেন এবং তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। একজন মুমিনের জন্য এর চেয়ে বড় সৌভাগ্য আর হতে পারে না।
হাদিসেও সুন্নতের অনুসরণের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হজরত ইরবাজ ইবনে সারিয়া (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশে অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী নসিহত করেন। সাহাবিদের চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে এবং অন্তর ভীত হয়ে পড়ে। তখন এক সাহাবি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! এটি যেন বিদায়বেলার উপদেশ। আমাদের আরও কিছু অসিয়ত করুন।’
জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকওয়া অবলম্বন, দায়িত্বশীল নেতার আনুগত্য এবং তাঁর সুন্নত ও খুলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শ দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসলামের নামে নতুন কোনো বিদআত বা মনগড়া বিষয় গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ প্রতিটি বিদআতই মানুষকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে।
অন্য এক হাদিসে হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তাঁর সুন্নতকে ভালোবাসে, সে প্রকৃতপক্ষে তাঁকেই ভালোবাসে। আর যে তাঁকে ভালোবাসবে, সে জান্নাতে তাঁর সঙ্গ লাভ করবে।
আরেকটি হাদিসে এসেছে, ফিতনা-ফাসাদের যুগে যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে জীবন পরিচালনা করবে, সে ১০০ জন শহীদের সমান সওয়াব লাভ করবে। কারণ এমন সময়ে সুন্নতের অনুসারীরা নানা বাধা, উপহাস ও বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে। তবুও যারা ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে সুন্নতের ওপর অবিচল থাকবে, আল্লাহ তাদের জন্য বিশেষ মর্যাদা ও প্রতিদান নির্ধারণ করেছেন।
তাই একজন মুসলমানের উচিত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নতকে অনুসরণ করা। কারণ সুন্নতের মধ্যেই রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি, গুনাহের ক্ষমা, জান্নাতের সুসংবাদ এবং দুনিয়া-আখিরাতের প্রকৃত মুক্তি।