সিলেট প্রতিনিধি:
সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে ধর্মীয় সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে সিলেটের বিশ্বনাথে ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’ বাংলাদেশের উদ্যোগে পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)-এর ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বিগত তিন মাসের কার্যক্রম মূল্যায়নের পাশাপাশি আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়। এ সময় সভা পরিদর্শন করেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের গভর্নেন্স এডভাইজার এমা উইন্ড।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিশ্বনাথ উপজেলা মডেল মসজিদের হলরুমে আয়োজিত সভায় আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাত প্রতিরোধ, সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে পিএফজির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্বনাথ পিএফজির অ্যাম্বাসেডর ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মোনায়েম খানের সভাপতিত্বে এবং পিএফজির কো-অর্ডিনেটর সাংবাদিক বদরুল ইসলাম (মহসিন)-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভা পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের গভর্নেন্স এডভাইজার এমা উইন্ড। তাঁর সঙ্গে ছিলেন এফসিডিও প্রতিনিধি তাসনিম সিদ্দিক, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা, ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর (এমআইপিএস) ড. নাজমুন নাহার নূর লুবনা, ইয়ুথ অ্যান্ড জেন্ডার এক্সপার্ট শারমিন সুলতানা লাবণ্য, এমআইপিএস প্রকল্পের সিলেট বিভাগীয় কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম মিনা এবং মাঠ সমন্বয়ক কুদরত পাশা।
সভায় অতিথিরা বলেন, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রত্যাশা ছাড়াই বিশ্বনাথ পিএফজির সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন। তারা বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি এবং ভেদাভেদ ভুলে সম্মিলিতভাবে কাজ করার মাধ্যমেই একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
তারা আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাত নিরসনে পিএফজির মতো উদ্যোগগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ পিএফজির পিস অ্যাম্বাসেডর প্রভাষক নাসরিন জাহান, সাংবাদিক তজম্মুল আলী রাজু, আন্তঃধর্মীয় কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা আবুল বশর ফারুক, উপজেলা জাতীয় পার্টির একাংশের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সামসুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও পিএফজি সদস্য কাওছার খান, হাজী সিতাব আলী, প্রভাষক আফিয়া রশিদ, আব্দুর রব, নাজমা বেগম, রাসনা বেগম, আশিকুর রহমান রানা, হাসান মাহমুদ রিপন, মলয় ভট্টাচার্য, শফিক আহমদ পিয়ার, মুক্তা রানী, মিনা বেগম, জুসনা বেগমসহ পিএফজির সদস্যরা।
এছাড়া ওয়াইপিজির সদস্য হাসিনা বেগম, ইয়ুথ কো-অর্ডিনেটর শাহ টিপু মিয়া, আজিজুর রহমান, ফয়ছল ইসলাম, আবদুল্লাহ, তানিয়া বেগম, সুমা বেগম, লিজা আক্তার শারমিন, সোহানা বেগমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।