ভারতে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সংসদে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরপরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজেই দায়ী এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে নরেন্দ্র মোদি বলেন, “আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই হতে পারে না।” তিনি জানান, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যারা দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
মোদির এ ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই পাল্টা পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের ব্যর্থতার কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে তাদের রক্ষা করা হয়েছে।
রাহুল গান্ধী এ সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তিনটি দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। দাবিগুলো হলো—
এর আগে বুধবার রাহুল গান্ধী দাবি করেন, গত এক দশকে ভারতে ১৫০টিরও বেশি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটলেও কোনো মামলায় দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়নি। তার এ বক্তব্যের একদিন পরই প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত মামলার জন্য বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
এদিকে ব্যঙ্গধর্মী সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছে। সংগঠনটি সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে।
এর আগে মঙ্গলবার এনডিএ জোটের বৈঠকেও প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে ‘ঘোর পাপ’ বলে মন্তব্য করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি।
অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো সংসদে প্রশ্নফাঁস এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অভিযানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি করে আসছে। একই সঙ্গে তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে সংসদীয় আলোচনায় অংশ নেওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সরকার অবশ্য এ বিষয়ে সংসদে আলোচনায় সম্মতি জানিয়েছে। তবে সরকারের দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে শর্ত হিসেবে সামনে এনে বিরোধী দলই সংসদীয় আলোচনা বাধাগ্রস্ত করছে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম