কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সাফাইশ্রী মৌজায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে জখম, শ্লীলতাহানি, স্বর্ণালংকার চুরি ও ভাঙচুরের অভিযোগে কাপাসিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের খিলবাড়ীর টেক এলাকার বাসিন্দা ফাতেহা মাহমুদা ইভা (৫৭) বাদী হয়ে বুধবার দিবাগত রাতে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামি করে মামলাটি (নং—২৯) রুজু করেন।
মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন— কাপাসিয়ার সাফাইশ্রী এলাকার মফিজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে মো. মাহফুজুর রহমান রাসেল মোল্লা (৪৬), মৈশন মিয়াবাড়ী এলাকার মৃত হেম মিয়ার ছেলে মাসুদ পারভেজ চৌধুরী (৪২), টঙ্গীর পাগার এলাকার মৃত বিনোদ চন্দ্র বর্মনের ছেলে মানিক চন্দ্র বর্মন (৫০) এবং সাফাইশ্রী এলাকার মৃত মহেন্দ্র চন্দ্র বর্মনের ছেলে শঙ্কর চন্দ্র বর্মন (৫৫)। পুলিশের রেকর্ড ও নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মামলার প্রধান আসামি ও তাদের সহযোগীরা এলাকায় ভূমিদস্যুতা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও ধর্ষণ, জমি দখল ও মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে আঘাতের একাধিক মামলা রয়েছে। এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাফাইশ্রী মৌজায় এসএ খতিয়ান নং-৫৭, আরএস খতিয়ান নং-৬০, এসএ দাগ নং-১৬, আরএস দাগ নং-২১ এর কাতে ৯ শতাংশ জমি ১৯৮৯ সালে ক্রয়সূত্রে মালিক হন ফাতেহা মাহমুদা ইভার মা। সম্প্রতি সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করলে গত ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আসামিরা বেআইনি জনতাবদ্ধে জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা নির্মাণাধীন দেওয়াল ও ঘর ভাঙচুর করে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করে।
পরবর্তীতে ২২ জুলাই রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগী গৃহবধূ জমিতে থাকা মালামাল দেখতে যাওয়ার পথে সাফাইশ্রী মৌজায় রাস্তার ওপর ওঁৎপেতে থাকা আসামিরা তাঁর পথরোধ করে। ১ ও ২ নম্বর আসামিসহ অন্য আসামিরা তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরে নীলাফোলা জখম করে। এর মধ্যে ২ নম্বর আসামি মাসুদ পারভেজ চৌধুরী রড দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। অন্যদিকে ১ নম্বর আসামি মাহফুজুর রহমান রাসেল মোল্লা গৃহবধূর পরিহিত পোশাক টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি ঘটান এবং গলায় থাকা ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন। পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। পুলিশের অভ্যন্তরীণ ক্রাইম রেকর্ড (পিসিপিআর) থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ১ নম্বর আসামি রাসেল মোল্লার বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ২৬ আগস্ট কাপাসিয়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা রুজু হয়, যা ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি চার্জশিটভুক্ত (চার্জশিট নং-৭) হয়। এ ছাড়া ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে একই থানায় একটি প্রতারণা মামলাও (মামলা নং-১৫) দায়ের হয়েছিল।
অপরদিকে, ২ নম্বর আসামি মাসুদ পারভেজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি কাপাসিয়া থানায় জমি দখলের একটি মামলা (মামলা নং-১১/১১) রয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমেদ জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এতে শ্লীলতাহানি ও চুরির মতো গুরুত্বপূর্ণ অজামিনযোগ্য ধারা যুক্ত রয়েছে। আসামিদের পূর্বের অপরাধের রেকর্ডও পুলিশের পর্যালোচনায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
যোগফল অনলাইন ডেস্ক