প্রিন্টিং তারিখ: ২৬ জুলাই ২০২৬প্রকাশের তারিখ: ২৬ জুলাই ২০২৬
সাত মাসে সিলেটে হাম-নিউমোনিয়ায় ১০৮ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ২২৯ জন
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত।
চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে সিলেট বিভাগে হাম ও নিউমোনিয়ার জটিলতায় ১০৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২২৯ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় সিলেট বিভাগে মোট ৫৯১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩০৭ জন সুনামগঞ্জে। এছাড়া সিলেট জেলায় ১৯৬ জন, হবিগঞ্জে ৬১ জন (এর মধ্যে ২ জন রুবেলায় আক্রান্ত) এবং মৌলভীবাজারে ২৭ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী পাওয়া না গেলেও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৪৭ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৭ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ জন, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৩ জন এবং সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২ জন ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে চিকিৎসাধীন ২২৯ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ওসমানী হাসপাতালে ৭৯ জন, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৭২ জন এবং সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৩০ জন রয়েছেন। বাকিরা বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ১০৮ শিশুর মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হামে এবং বাকি ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গের সঙ্গে নিউমোনিয়ার জটিলতায়। জেলা ভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ৪৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে সুনামগঞ্জে। এছাড়া সিলেটে ৩৬ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং হবিগঞ্জে ১১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা এবং হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।