বাংলাদেশের চা শিল্পের বিকাশ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে শিল্পটির বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধানের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় কমিটি গঠনের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের চা শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে এসব নির্দেশনা ও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
সভায় দেশের বিভিন্ন চা বাগানের মালিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা শিল্পটির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন। তারা উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থায়নের সংকট, জ্বালানি ব্যয়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জসহ বিভিন্ন সমস্যা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি চা শিল্পের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কয়েকটি প্রস্তাবও দেন তারা।
সব পক্ষের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতিতে চা শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এ শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত, আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করবে।
বৈঠকে চা বাগান মালিকদের বিদ্যমান ঋণের দায় সহজীকরণ এবং স্বল্প সুদে নতুন ঋণ সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া চা চাষের অনুপযোগী বাগান এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার কথা জানান। এ ধরনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতাও দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
চা শিল্পের সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং চা শিল্প-সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং দেশের বিভিন্ন চা বাগানের মালিক ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম