বগুড়ায় হঠাৎ করেই অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৩০-৪০ টাকা থেকে বেড়ে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। একই সঙ্গে বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের সবজির দামও।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে বগুড়া শহরের রাজাবাজার ও ফতেহ আলী বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। মরিচের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজারে মরিচ কিনতে গিয়ে অনেকের সঙ্গে বিক্রেতাদের বাকবিতণ্ডাও হয়েছে।
ক্রেতা আবুল হায়াত বলেন, "গত সপ্তাহেই ৩০ টাকায় এক কেজি মরিচ কিনেছি। আজ এসে শুনি ৩২০ টাকা। এত অল্প সময়ে দাম এত বেড়ে গেল কীভাবে, বুঝতে পারছি না।"
পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, অতিবৃষ্টিতে মাঠের মরিচগাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। জেলার বৃহত্তম পাইকারি হাট মহাস্থানে প্রতি মণ কাঁচামরিচ ১১ হাজার ৫০০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেই হিসাবে পাইকারি পর্যায়েই প্রতি কেজির দাম প্রায় ৩০০ টাকা। পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয় যোগ হওয়ায় খুচরা বাজারে ৩২০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।
শুধু মরিচ নয়, বাজারে বেশিরভাগ সবজির দামও কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে আলু ও পেঁপের দামে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি।
সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, কাঁচামরিচের এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের রান্নাঘরের খরচ বেড়ে গেছে। তারা দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
রাজাবাজার আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল প্রসাদ রাজ বলেন, অতিবৃষ্টিতে মরিচের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। তবে আবহাওয়ার উন্নতি হলে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বাজার কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম জানান, টানা বর্ষণে মরিচগাছ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ৫ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম