মেসুত ওজিলের আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের আট বছর পরও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি জার্মানি। একসময় বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে পরিচিত দলটি এখন টানা বড় টুর্নামেন্টে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে সমালোচনার মুখে। ফলে ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি প্রশ্ন—এ কি তবে ‘ওজিলের অভিশাপ’, নাকি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনাহীনতার ফল?
২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় জার্মানি। ওই আসরের পর বর্ণবাদের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার মেসুত ওজিল। তৎকালীন জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (DFB) এবং সমর্থকদের একাংশের সমালোচনার মুখে ক্ষোভ ও হতাশা থেকেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নেন।
এরপর থেকে বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তারা আবারও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। আর সদ্য শেষ হওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে রাউন্ড অব ৩২ থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে জার্মানিকে। টানা তিনটি বিশ্বকাপে এমন ব্যর্থতা দলটির ইতিহাসে নজিরবিহীন।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ‘ওজিলের অভিশাপ’ মূলত একটি প্রতীকী ব্যাখ্যা। তবে বাস্তবতা হলো, ওজিলের বিদায়ের পর জার্মানি আর তার মতো একজন সৃজনশীল প্লে-মেকার খুঁজে পায়নি। মাঝমাঠের সৃষ্টিশীলতার ঘাটতি, নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকারের অভাব এবং রক্ষণভাগের দুর্বলতা বড় ম্যাচগুলোতে দলটিকে ভুগিয়েছে।
এ ছাড়া কোচ পরিবর্তন, নেতৃত্বের সংকট এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবও জার্মান ফুটবলের ধারাবাহিক অবনতির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জোয়াকিম লোর বিদায়ের পর নতুন কোচরা দলের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছেন।
তবে ফুটবলপ্রেমীদের একটি বড় অংশ এখনো বিশ্বাস করেন, ওজিলের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাই যেন প্রতীকীভাবে জার্মান ফুটবলের পতনের সূচনা। অন্যদিকে বিশ্লেষকদের মতে, আবেগ নয়—দলের কৌশলগত দুর্বলতা, খেলোয়াড় তৈরির সংকট এবং পরিকল্পনার ঘাটতিই জার্মানির বর্তমান অবস্থার মূল কারণ।
ফলে প্রশ্নটি এখনও আলোচনায় রয়ে গেছে—এ কি সত্যিই ‘ওজিলের অভিশাপ’, নাকি নিজেদের ভুল সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি মূল্য দিচ্ছে জার্মান ফুটবল?
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম