পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ভাঙাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন দেয়াল ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের সভাপতি গাজী গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
শনিবার (১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে কালাইয়া বন্দরের মহাজনপট্টি বড় জামে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ জানান, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বছর আগে বিদ্যালয়ের নামে কালাইয়া মৌজায় ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ জমি কেনা হয়। দীর্ঘদিন সেখানে দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া হলেও ভবনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় নতুন করে উন্নয়নকাজ শুরু করা হয়। এর অংশ হিসেবে শ্রমিকরা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছিলেন।
তার অভিযোগ, প্রায় ৮ ফুট উঁচু ও ৩৫ ফুট দীর্ঘ দেয়াল নির্মাণের সময় গাজী গিয়াস উদ্দিন কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে দেয়ালটি ভেঙে ফেলেন।
ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক। তিনি বলেন, এ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গায় নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়েছে। তাদের দাবি, যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত রাস্তা থাকা সত্ত্বেও অযৌক্তিকভাবে নির্মাণকাজে বাধা দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা যুবদলের সভাপতি গাজী গিয়াস উদ্দিন। তিনি বলেন, যেখানে দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছিল সেটি গুরুত্বপূর্ণ জনসাধারণের চলাচলের পথ। আশপাশে দুটি মসজিদ, দুটি মন্দির ও দুটি মার্কেট থাকায় ওই সড়কে প্রতিদিন অনেক মানুষের যাতায়াত হয়। দেয়াল নির্মাণ করলে রাস্তা আরও সংকুচিত হয়ে পড়ত। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন এবং তারাই দেয়ালটি ভেঙেছেন। তিনি কেবল ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ জানান, বিষয়টি জানার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম