ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহে ড্যানিউব নদীর পানি কমে যাওয়ায় সার্বিয়ার প্রাহোভো এলাকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ডুবিয়ে দেওয়া নাৎসি জার্মানির একাধিক যুদ্ধজাহাজের ধ্বংসাবশেষ আবারও দৃশ্যমান হয়েছে। ইতিহাসের সেই নিদর্শন দেখতে আগ্রহীদেরও ভিড় বাড়ছে। খবর রয়টার্সের।
প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি কমলে এসব যুদ্ধজাহাজের অংশবিশেষ দেখা যায়। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ধ্বংসাবশেষ ধাপে ধাপে উদ্ধারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আকারে বড় কয়েকটি জাহাজ নদীর তলদেশেই রেখে আরও গভীরে চাপা দেওয়া হয়েছে, যাতে নৌযান চলাচলে কোনো সমস্যা না হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজে ডুবুরি দল, বালু ও পলি অপসারণে বিশেষ পাম্প এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে।
ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, ১৯৪৪ সালের শরতে সোভিয়েত রেড আর্মির অগ্রযাত্রার মুখে জার্মান বাহিনী স্থল ও নৌপথে পিছু হটতে শুরু করে। সে সময় অ্যাডলফ হিটলারের নির্দেশ ছিল, কোনো সামরিক সরঞ্জাম যেন শত্রুপক্ষের হাতে না পড়ে। সেই নির্দেশ মেনে ড্যানিউব নদীতে অবস্থানরত জার্মান নৌবাহিনীর সদস্যরা নিজেদের যুদ্ধজাহাজ নিজেরাই ডুবিয়ে দেন।
দীর্ঘ আট দশক পর তাপদাহে নদীর পানি কমে যাওয়ায় সেই ডুবে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলোর ধ্বংসাবশেষ আবারও দৃশ্যমান হয়েছে। ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে নদীর বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এসব জাহাজ এখন গবেষক, পর্যটক ও স্থানীয়দের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম