ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় ধরনের সংঘাত এড়াতেই তিনি শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো রস হ্যারিসন বলেন, ট্রাম্প কেন হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির আলোচনায় কী ধরনের বার্তা বা আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, সেটিও এখনও পরিষ্কার নয়।
তবে হ্যারিসনের ধারণা, তেহরান এই সিদ্ধান্তকে সম্ভাব্য বড় সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি এড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবেই দেখবে।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্পষ্ট সমঝোতা না হলে বর্তমান পরিস্থিতিকে উত্তেজনা প্রশমনের স্থায়ী ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যাবে না।
হ্যারিসনের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার পেছনে জুন মাসে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের ভিন্ন ব্যাখ্যাও ভূমিকা রেখেছে। তার দাবি, ইরান ওই সমঝোতার একটি ধারা এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছে, যাতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তাদের হাতে থাকে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ওমানের সহায়তায় জাহাজগুলোকে প্রণালির দক্ষিণ উপকূল ঘেঁষে চলাচলের ব্যবস্থা করে, যা নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দেয়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি ও অবরোধ ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে সুস্পষ্ট সমঝোতা না হলে বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। তার ভাষায়, সাম্প্রতিক ঘোষণা হয়তো সাময়িক বিরতি মাত্র।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম