বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দর কমে যাওয়ায় স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (৩ আগস্ট) স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫৫ দশমিক ৩৬ ডলারে। গত জুলাই মাসেও টানা কয়েক মাসের পতনের পর স্বর্ণের দামে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা এবং ডলারের দুর্বল অবস্থান বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণের দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা শুরু হতে পারে—এমন আশাবাদে তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম চার ডলারেরও বেশি কমে যায়। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি।
ইউবিএস ব্যাংকের বিশ্লেষক জিওভানি স্টাউনোভো বলেন, বাজারে আবারও প্রচলিত প্রবণতা ফিরে এসেছে—তেলের দাম কমলে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে, আর তেলের দাম বাড়লে স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি হয়। তেলের মূল্য কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কাও কিছুটা কমেছে, যা স্বর্ণের বাজারকে শক্তিশালী করেছে।
এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। প্রতি আউন্স রুপার দাম ১ শতাংশ বেড়ে ৫৮ দশমিক ১৮ ডলার, প্লাটিনাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৪৭ দশমিক ২৫ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ০.৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৮০ দশমিক ২৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম