ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন আগে বিক্রি করা জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শেখ নাঈমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত শেখ নাঈম উপজেলার নতুন বান্দুরা এলাকার বাসিন্দা এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিতর্কিত জমিতে টিনের বেড়া দিয়ে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছিল। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা দ্রুত সরে যান। জমির এক পাশে ইতোমধ্যে একটি ছোট টিনের ঘরও নির্মাণ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মতিয়ার রহমান দাবি করেন, তার বাবা শেখ আনছের আলী ১৯৭৬ সালে নতুন বান্দুরা মৌজার আরএস ২৯৫ নম্বর দাগভুক্ত ১৬ শতাংশ জমি শেখ নাঈমের বাবা ও দাদার কাছ থেকে বৈধভাবে ক্রয় করেন। জমিটির নিবন্ধিত দলিল ও নামজারি খতিয়ান তাদের নামে রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা জমিটি ভোগদখলে আছেন।
তার অভিযোগ, তিনি ও তার ভাই ঢাকায় বসবাসের সুযোগে শেখ নাঈমের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি ওই জমি দখলের চেষ্টা করছেন এবং সেখানে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে শেখ নাঈমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তার বাবা আব্দুল বারেক দাবি করেন, তারা ওই জমি বিক্রি করেননি। যদিও জমি বিক্রির দলিল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
স্থানীয়দের দাবি, শেখ নাঈমের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর মিলাদ মাহফিলে বাধা দেওয়া এবং এক পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধরের মামলায় কারাভোগের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও শেখ নাঈম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সক্রিয় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম