নওগাঁর মান্দা উপজেলার বিলবয়রা গয়েশিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে মারধর ও ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। একপর্যায়ে তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং প্রধান শিক্ষককে নিরাপদে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবন, ফুটো টিনের ছাউনি দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়া, রাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মাদকসেবীদের আড্ডাসহ নানা সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চললেও সেগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এসব বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানের বিরোধ তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, গত সোমবার ষষ্ঠ শ্রেণির কৃষ্ণ কুমার ও সপ্তম শ্রেণির সাজেদুল ইসলামকে মারধর করেন প্রধান শিক্ষক। এর পরদিন একই অভিযোগে সপ্তম শ্রেণির রিফাত হোসেন ও আব্দুল্লাহকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এতে অসুস্থ হয়ে পড়া আব্দুল্লাহকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ছাত্রী অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক প্রায়ই তাদের সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলতেন এবং তুচ্ছ কারণে শারীরিক শাস্তি দিতেন। এসব ঘটনার প্রতিবাদ ও তাঁর অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামে। একপর্যায়ে তাঁকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করা হয় এবং তাঁর মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে গত দুই বছর ধরে পরিচালনা কমিটি নেই। নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলমান। বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় শাসন করলেও একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উসকে দিয়েছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষকের আচরণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ছিল। তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের মারধর করতেন। এ কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থী অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত প্রকাশ করতেন না এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অন্য শিক্ষকদের মতামত নিতেন না। দীর্ঘদিনের এসব অসন্তোষও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে বলে তাদের দাবি।
ঘটনার খবর পেয়ে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম আজমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে মান্দা থানা পুলিশ প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে নিরাপদে উদ্ধার করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম