ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১১) অপহরণ করে ধর্ষণ এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নৃশংস এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযুক্তদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগীর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে ক্লাস করতে যায়। দুপুরে টিফিনের সময় বাড়ি ফেরার পথে আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা শিশুটির মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক রাস্তার পাশের একটি নির্জন কলাবাগানে নিয়ে যায়।
সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় এবং ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের পর অভিযুক্তরা তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে শিশুটি কোনোমতে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয়।
ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীর পরিবার বোরহানউদ্দিন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দিনের আলোতে স্কুল থেকে ফেরার পথে যদি একটি শিশুও নিরাপদ না থাকে, তাহলে সমাজের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের ভাষ্য, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম