জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার চাপারকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে টানা দুই বছর এসএসসি পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। চলতি বছর বিদ্যালয়টি থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও তাদের একজনও উত্তীর্ণ হয়নি। এর আগের বছরও ১০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছিল।
এমপিওভুক্ত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষক রয়েছেন চারজন। পরপর দুই বছর শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করায় বিদ্যালয়টির পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পড়াশোনার পরিবেশ ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় চাপারকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। গত বছরও একই বিদ্যালয় থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছিল।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ভালো ফল করানোর জন্য আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু নানা কারণে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল হয়নি। এ বছর ১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। দুঃখজনকভাবে তাদের কেউই পাস করতে পারেনি।’
শিক্ষার্থীদের পারিবারিক ও সামাজিক পরিস্থিতিকে ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পড়াশোনায় মনোযোগের ঘাটতি ছিল। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে নয়জনই বিবাহিত। এমনকি এসএসসি পরীক্ষার মাত্র তিন দিন আগে তিনজন ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তারপরও তাদের ভালো ফলাফলের জন্য বিভিন্নভাবে উৎসাহিত ও সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি।’
টানা দুই বছর ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘গত বছরও ১০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু সেবারও কেউ পাস করতে পারেনি। পরপর দুই বছর শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় আমরাও উদ্বিগ্ন। কীভাবে শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নত করা যায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করার চেষ্টা করছি।’
বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ প্রসঙ্গে শাহনাজ পারভিন বলেন, ‘অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় বিদ্যালয়ে নানা ধরনের রাজনৈতিক সমস্যারও সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে। আমরা চাই সব ধরনের সমস্যা কাটিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও ভালো করতে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।’
এদিকে জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার শেফালী মফিজ মহিলা মাদ্রাসার ফলাফলও হতাশাজনক। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৪ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও তাদের একজনও পাস করতে পারেনি।
সরিষাবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, ‘চাপারকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক রয়েছেন। চলতি বছর বিদ্যালয়টি থেকে একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। গত বছরও কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। ফলে টানা দুই বছর শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম