জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ যোদ্ধাদের পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে এ সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি; পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, এমপি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ফাহমিদা আখতার, এনডিসি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে পর্যটন করপোরেশনের পক্ষ থেকে শহীদ জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধাদের হাতে প্রাইজবন্ড ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত যোদ্ধারা জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাহসী অংশীদার। তাঁদের আত্মত্যাগ শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ করলেই হবে না, তাঁদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশাকে ধারণ করে মানবিক, বৈষম্যহীন ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, সন্তান হারানোর কষ্ট একজন মা-বাবাই সবচেয়ে ভালো বোঝেন। শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। তাঁদের অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে পর্যটন খাতকে আরও নিরাপদ, জনবান্ধব, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ৩৬ জুলাই স্মরণে পর্যটন করপোরেশনের হোটেলগুলোতে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য ৩৬ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিটেও বিশেষ মূল্যছাড়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকেই তিনি এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে তাঁকে কারাগারে নেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, আন্দোলনে বিজয় না এলে আজকের এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে, আর ২০২৪ সালের আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ের যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে জুলাই যোদ্ধাদের বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থায় তাঁদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগ নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঐতিহাসিক দায়িত্ব সামনে এনেছে। উন্নয়ন পরিকল্পনায় বৈষম্যহীন সুযোগ, মানুষের প্রত্যাশা ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে গুরুত্ব দিতে হবে। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে উন্নয়নকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনকল্যাণমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, জুলাই শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের সম্মান জানানো শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি কৃতজ্ঞতা, দায়বদ্ধতা ও জাতীয় চেতনার বহিঃপ্রকাশ। পর্যটন করপোরেশন এমন একটি পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে কাজ করবে, যেখানে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণদের সম্ভাবনার বিকাশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।
অনুষ্ঠানে পাঁচজন শহীদ জুলাই যোদ্ধার পরিবারের সদস্য এবং পাঁচজন আহত জুলাই যোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পর্যটন খাতের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম