পাবনার বেড়া উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবাধে তৈরি ও বিক্রি হচ্ছে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ‘চায়না দুয়ারী’ জাল। বেড়া পৌরসভার বনগ্রাম এলাকার বিভিন্ন কারখানায় দিন-রাত তৈরি হচ্ছে নিষিদ্ধ এ জাল। আর নাজিম বাজারে প্রকাশ্যেই চলছে এর কেনাবেচা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে রাতের আঁধারে ট্রাক, পিকআপ, ভ্যান ও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এসব জাল পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বনগ্রাম এলাকা বর্তমানে ‘চায়না দুয়ারী’ জাল তৈরির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এলাকার কয়েকটি কারখানায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল তৈরি করা হচ্ছে। পরে সেগুলো বিভিন্ন যানবাহন ও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিরাজগঞ্জ, নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিষিদ্ধ এ জালের উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র জড়িত। স্থানীয়দের দাবি, চায়না দুয়ারী জাল ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি হিসেবে হেলাল মোল্লা দায়িত্ব পালন করছেন। তার প্রভাব ও মদতেই নাজিম বাজারে প্রতিদিন প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ এ জালের কেনাবেচা চলছে বলে অভিযোগ তাদের।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, চায়না দুয়ারী জালের ফাঁস খুবই ছোট হওয়ায় এতে মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে। বিশেষ করে রেণু পোনা, ছোট মাছ ও ডিমওয়ালা মা মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ায় নদী-নালা ও জলাশয়ে দেশীয় মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। এতে জলজ জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হলেও তা স্থায়ীভাবে কার্যকর হচ্ছে না। অভিযানের পর কিছুদিন উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ থাকলেও পরে আবার প্রকাশ্যে শুরু হয় নিষিদ্ধ জালের ব্যবসা। ফলে মূল কারবারি ও কারখানা মালিকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাদের।
তাদের দাবি, বনগ্রামের অবৈধ কারখানাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে নাজিম বাজারসহ বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর পার্সেল বুকিংয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে। এতে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো নিষিদ্ধ জালের চালান শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুনাল্ট চাকমার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিকরা নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারী’ জালের উৎপাদন, পরিবহন ও বিক্রি বন্ধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সমন্বিত ও কার্যকর অভিযান দাবি করেছেন।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম