নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ভাড়া বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে স্বামী খোকন সরকার মারা যাওয়ার মাত্র ছয় ঘণ্টা পর মারা গেলেন তার স্ত্রী ফজিলত বেগমও। মর্মান্তিক এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বুধবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় কুমিল্লার দেবিদ্বারের গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে খোকন সরকারের দাফন সম্পন্ন হয়। এর মাত্র ছয় ঘণ্টা পর বিকেল ৪টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তার স্ত্রী ফজিলত বেগম।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় স্বামীর কবরের পাশেই ফজিলত বেগমকে দাফন করা হয়েছে।
নিহত আব্দুস সামাদ ওরফে খোকন সরকার (৫৪) দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের উজানীকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। তার স্ত্রী ফজিলত বেগম (৪০) পাশের উজানীজোড়া গ্রামের নানু মিয়া খন্দকারের মেয়ে। এই দম্পতি নারায়ণগঞ্জের মদনপুর এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। তাদের দুই সন্তান ইউসুফ সরকার (২০) ও খাদিজা আক্তার (১৮)।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার মুরাদপুর এলাকার ভাড়া বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে খোকন ও ফজিলত গুরুতর দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
আইসিইউতে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মারা যান খোকন সরকার। বুধবার সকালে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয় এবং সকাল ১০টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্বামীর দাফন শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্ত্রী ফজিলত বেগমের মৃত্যুর খবর আসে। একসঙ্গে দুজনকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পরিবার ও এলাকাবাসী।
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের দুই পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ কঠিন সময়ে অসহায় পরিবারটির পাশে উপজেলা প্রশাসন থাকবে এবং সরকারি আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম