দীর্ঘ প্রায় নয় মাসের মোতায়েন শেষে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের বদলে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে আরেক বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। এক মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
২০২৫ সালের নভেম্বরে মোতায়েন করা হয় ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে। শুরুতে এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করলেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগে রণতরিটিকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করায় লিংকের নাবিকদের পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ, পাশাপাশি নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা।
সম্প্রতি নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিবের সঙ্গে এক বৈঠকে পরিবারের সদস্যরা জানতে চান, লিংকন কবে দেশে ফিরবে। তবে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বিমানবাহী রণতরির চলাচলের নির্দিষ্ট সময় সাধারণত প্রকাশ করে না মার্কিন নৌবাহিনী।
নৌবাহিনীর সচিব হাং কাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, পরিকল্পিত রোটেশনের অংশ হিসেবে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন শিগগিরই দেশে ফিরবে।
দীর্ঘদিন সমুদ্রে অবস্থানের কারণে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন নাবিকের পরিবারের সদস্য দাবি করেছেন, একাধিক নাবিক জাহাজ থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন।
তবে নৌবাহিনী এ দাবির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয়। তাদের দাবি, জাহাজে আত্মহত্যার চিন্তা বা আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা বেড়েছে—এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। বরং মোতায়েনের সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা কমেছে।
চলতি মাসের শুরুতে লিংকনের এক নাবিক জাহাজ থেকে সমুদ্রে পড়ে গেলে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়। কীভাবে তিনি পানিতে পড়ে গেলেন, তা তদন্ত করছে নৌবাহিনী। এর আগে গত এপ্রিল মাসে লিংকনের সঙ্গে থাকা একটি ডেস্ট্রয়ার থেকেও এক নাবিক পানিতে পড়ে গিয়েছিলেন। তাকেও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
নাবিকদের মানসিক সহায়তা বাড়াতে লিংকনে অতিরিক্ত সমাজকর্মী ও কাউন্সেলর পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী।
এদিকে জাহাজে খাবার ও অন্যান্য সরবরাহের ঘাটতি নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। এক নাবিকের পরিবারের সদস্য জানান, মোতায়েনের শুরুর দিকে নতুন সরবরাহ পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় কিছু সময় খাবারের সংকট দেখা দিয়েছিল। পরে অবশ্য পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
নৌবাহিনীও কিছু সরবরাহে বিলম্বের বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে প্রচলিত সরবরাহ কেন্দ্রগুলো বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কিছু সামগ্রী জাহাজে পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। তবে বর্তমানে লিংকনে পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যকর খাবার রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরাও পেন্টাগনের কাছে তথ্য চেয়েছেন। সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল জাহাজটির পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ লিংকন নিয়ে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে’ বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, প্রতিটি জাহাজ, নাবিক ও কমান্ডারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
অন্যদিকে জাপানের ইয়োকোসুকা ঘাঁটিতে অবস্থানরত ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন গত মে মাসে প্রশান্ত মহাসাগরে টহলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। চলতি সপ্তাহে রণতরিটিকে মালাক্কা প্রণালি হয়ে পশ্চিম দিকে যেতে দেখা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর পর ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন সেখানে মোতায়েন থাকা আরেক মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের সঙ্গে যুক্ত হবে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম