চা-চাষ লালমনিরহাটের কৃষি ও অর্থনীতিতে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি।
তিনি বলেন, পরিকল্পিত চাষাবাদ, আধুনিক পরিচর্যা, উন্নত প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সুষ্ঠু বিপণন নিশ্চিত করা গেলে লালমনিরহাটের চা-শিল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং স্থানীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পূর্ব বিছনদই (ডাউয়াবাড়ী) এলাকায় জেলার প্রথম প্রতিষ্ঠিত ‘সোমা চা-বাগান’ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দুলু বলেন, লালমনিরহাটের মাটি, ভূ-প্রকৃতি ও আবহাওয়া চা-চাষের জন্য উপযোগী। পাশের পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের বিস্তীর্ণ সমভূমিতে ইতোমধ্যে চা-চাষের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। একই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে লালমনিরহাটেও চা-শিল্পকে লাভজনক কৃষিভিত্তিক শিল্পে পরিণত করা সম্ভব।
মন্ত্রী বলেন, চা শুধু একটি কৃষিপণ্য নয়; এর সঙ্গে কৃষক, শ্রমিক, উদ্যোক্তা, পরিবহন ও বিপণনসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। এ শিল্পের বিকাশ হলে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির গতি আরও বাড়বে।
চা-শিল্পের প্রসারে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের পর সাম্প্রতিক সময়ে চা-শিল্পের সম্ভাবনাময় জেলা হিসেবে এগিয়ে আসছে লালমনিরহাট। জেলার পাঁচটি উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ২০০ একর জমিতে চা-বাগান গড়ে উঠেছে। এসব বাগান থেকে বছরে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন চা পাতা উৎপাদিত হচ্ছে।
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত চা পাতার প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং স্থানীয় চা-বাগান মালিকদের যৌথ উদ্যোগে ‘সোমা অ্যান্ড সোমা টি প্রসেসিং লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এতে স্থানীয় চা পাতার মূল্য সংযোজনের পাশাপাশি বাজারজাতকরণের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, চা-বাগানের উদ্যোক্তা শাহান আরা বেগম সোমা, ফেরদৌস আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম