দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট স্থায়ীভাবে সমাধান করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের একটি হলরুমে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জেলা পর্যায়ে বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বিগত বছরের বাস্তবায়ন মূল্যায়ন বিষয়ক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, গ্যাস সংকট স্থায়ীভাবে মোকাবিলায় নতুন এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) স্থাপন, পাইপলাইন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে প্রায় দুই বছর সময় প্রয়োজন হবে।
তিনি বলেন, প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার নতুন কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। মালয়েশিয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে বড় জাহাজে এলএনজি এনে ছোট জাহাজে স্থানান্তর করা হবে। এরপর ভাসমান পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিটের মাধ্যমে এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, পেট্রোনাসের সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো বর্তমানে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকায় এই মুহূর্তে অতিরিক্ত জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও জ্বালানি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাই বিষয়টি সমাধানে কাজ করছেন।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, শিল্পকারখানাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বাসাবাড়িতেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তবে বর্তমান সংকটের একটি বড় অংশ আগের পরিস্থিতির উত্তরাধিকার হিসেবে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গ্যাস-বিদ্যুতের চাহিদা মৌসুমভেদে পরিবর্তিত হয় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গরমের সময় বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। শীতকালে সেই চাহিদা তুলনামূলকভাবে কমে আসে।
সম্প্রতি সংকট আরও তীব্র হওয়ার কারণ হিসেবে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিটের সমস্যার কথা উল্লেখ করেন তিনি। একটি ইউনিটে গ্যাস ভরা সম্ভব হয়নি এবং অন্যটির একটি বয়লার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গত কয়েক দিনে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
তবে এরই মধ্যে একটি ইউনিটে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। অন্য ইউনিটের একটি বয়লারও মেরামত করা হয়েছে এবং আরেকটির মেরামতের কাজ চলছে।
দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এতে শিল্পকারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহের সংকটও অনেকটা কমে আসবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, নতুন গ্যাসকূপ খনন এবং জ্বালানি টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। এসব অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশের দৈনিক জ্বালানির চাহিদা সরবরাহের তুলনায় অনেক বেশি। এর সঙ্গে গরম মৌসুমে চাহিদা বাড়ায় সংকট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।