অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। শক্তি, সামর্থ্য, অভিজ্ঞতা ও টেস্ট ঐতিহ্যে অনেক এগিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই ঘরের মাঠে ৯ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা।
ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে চতুর্থ দিনের শুরু থেকেই জয়ের পথে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস ২৮৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। মাত্র ১৪.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়েই সেই রান তুলে নেয় বাংলাদেশ।
সহজ লক্ষ্যে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি করা তানজিদ হাসান তামিম কোনো রান না করেই জশ হ্যাজলউডের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন। তবে এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক।
দ্বিতীয় উইকেটে ৭৫ বলে ৫৩ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন দুজন। সাদমান ৪২ বলে ২৫ এবং মুমিনুল ৩৯ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন।
চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করার সময় ৬ উইকেট হাতে নিয়ে ১৬১ রানে ছিল অস্ট্রেলিয়া। আগের দিন ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি মিলে গড়েছিলেন প্রতিরোধ। কিন্তু দিনের শুরুতেই সেই জুটি ভেঙে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
দিনের সপ্তম ওভারে ক্যারিকে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন মিরাজ। ৭২ বলে ৩০ রান করে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ান এই ব্যাটার। এরপর বেউ ওয়েবস্টারকেও বেশি সময় উইকেটে থাকতে দেননি মিরাজ। ২১ বলে ৫ রান করা ওয়েবস্টারের স্টাম্প ভেঙে দেন তিনি।
এরপর অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও ফিরিয়ে দেন মিরাজ। ৩২ বলে ৮ রান করা কামিন্স সাদমান ইসলামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন মিচেল স্টার্ক ও ক্যামেরন গ্রিন। তবে বিরতির পর স্টার্ককে ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। ৩৪ বলে ১৮ রান করে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন স্টার্ক।
অন্যপ্রান্তে একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে একমাত্র ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০১ বলে ১০৪ রান করে হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন গ্রিন।
এর দুই ওভার পর নাথান লায়নকে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের সমাপ্তি টানেন মিরাজ। ২৭ বলে ১৫ রান করেন লায়ন।
লায়নকে ফেরানোর সঙ্গে সঙ্গে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন মিরাজ। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ফাইফার নেওয়া দ্বিতীয় বাংলাদেশি বোলার হলেন তিনি। এর আগে এই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ফাইফারের কীর্তি গড়েছিলেন হাসান মাহমুদ।
এর আগে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। জবাবে তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে ভর করে ৪২৬ রান করে টাইগাররা।
তানজিদের ব্যাট থেকে আসে ১০১ রান। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ করেন ৬৫ রান। ফলে প্রথম ইনিংসেই অস্ট্রেলিয়ার ওপর ২২৮ রানের বিশাল লিড নেয় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিনের ১০৪ রানের লড়াকু ইনিংসের ওপর ভর করে অস্ট্রেলিয়া ২৮৪ রান করতে সক্ষম হয়। তবে মিরাজের পাঁচ উইকেট ও হাসান মাহমুদের তিন উইকেটের সামনে শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের ইনিংস থেমে যায়।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।
ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ, যিনি দুই ইনিংসে মোট ৯ উইকেট শিকার করে ঐতিহাসিক জয়ে বড় অবদান রাখেন।
ম্যাচ: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা: হাসান মাহমুদ
সিরিজ: বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে
দ্বিতীয় টেস্ট: ২২ আগস্ট, ম্যাকাই
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম