জাতীয় পর্যায়ের দুই নারী অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে বিতর্ক চলছিল। মেডিক্যাল পরীক্ষার পর বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি তাদের নারী বিভাগে অংশগ্রহণের যোগ্য নন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে দুজনের জাতীয় প্রতিযোগিতার সব পদক বাতিল এবং আজীবন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জান্নাত বেগম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট এবং কবিতা রায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অ্যাথলেট। ২৮ বছর বয়সী জান্নাত থ্রো ইভেন্টে এবং ১৯ বছর বয়সী কবিতা স্প্রিন্টে অংশ নিতেন।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর লিঙ্গ নির্ধারণে মেডিক্যাল পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেয় অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের আগের কমিটি। এ জন্য বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে পরীক্ষা-নিরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে। বোর্ডের কার্যক্রম গত ১১ মে শেষ হয় এবং ১৬ মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ফেডারেশনের কাছে জমা দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুজনের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নারী অ্যাথলেটদের জন্য নির্ধারিত সীমার তুলনায় অনেক বেশি পাওয়া গেছে। জান্নাত বেগমের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পাওয়া যায় ১৯ দশমিক ৬৬ ন্যানোমোল/লিটার। আর কবিতা রায়ের ক্ষেত্রে এই মাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৫০ ন্যানোমোল/লিটার।
ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের নিয়ম অনুযায়ী নারী বিভাগে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অ্যাথলেটের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকা বাধ্যতামূলক।
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন জানান, মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই দুজনের পদক বাতিল ও নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জান্নাতের কয়েকটি সোনাসহ মোট ৯টি পদক রয়েছে। অন্যদিকে কবিতার পদক রয়েছে প্রায় চারটি। এসব পদক এখন পরবর্তী যোগ্য প্রতিযোগীদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করা হবে।
ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে নারী বিভাগে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না তারা।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম