ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরও স্বাভাবিক হয়নি পরিস্থিতি। রোববার (১৬ আগস্ট) হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন এবং জরুরি ত্রাণের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে ফ্লোরেস দ্বীপের উত্তর উপকূলের কাছে সমুদ্রের নিচে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে এখন পর্যন্ত ৪৮ জন নিহত ও অন্তত ১০১ জন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার (বিএনপিবি) মুখপাত্র বার্তন সুয়ার পেলিতা পানজাইতান জানান, ভূমিকম্পের পর প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বাড়িঘর ছেড়ে চলে গেছেন। ভূমিকম্পের পর কয়েক ঘণ্টায় ৩৪১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।
দুর্যোগের কারণে বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জরুরি ত্রাণ পৌঁছানোর গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কও এখনো ব্যবহারযোগ্য হয়নি।
ফ্লোরেসের উত্তর উপকূলের নাঙ্গাহালে গ্রামের বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী উমরি জানান, তাদের খাবার, পানি, ওষুধ এবং শিশুদের জন্য ডায়াপার প্রয়োজন। ভূমিকম্পের পর বাড়িতে ফিরতে ভয় পেয়ে গত ২৪ ঘণ্টা ধরে অন্যদের সঙ্গে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থান করছেন তিনি।
একই পাহাড়ে রাত কাটানো নুরহিদায়াতি বলেন, ‘আমি এখনও খুব আতঙ্কিত। গতকালের ভূমিকম্পের কথা মনে পড়লে বুক ধড়ফড় করছে। আমরা শুধু দৌড়ে এখানে উঠে এসেছিলাম। এখনও খুব ভয় পাচ্ছি।’
১৯৯২ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের স্মৃতিও স্থানীয়দের আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। ওই বছর ফ্লোরেসে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
নুরহিদায়াতি আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার দ্রুত দুর্গত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দেবে।
বিএনপিবির মুখপাত্র বার্তন জানান, ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন অন্তত ১০১ জন। তিনি বলেন, প্রাণহানির পাশাপাশি সমুদ্রের কাছে সংঘটিত এই ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
দুর্গতদের জন্য জরুরি তাঁবু, খাবার, ওষুধ, কম্বল, খাট, মাদুর, বিশুদ্ধ পানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেনারেটর প্রয়োজন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা আরও একজন বেড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়েছেন বা নিখোঁজ রয়েছেন—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার কর্মকর্তা ফাথুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা শুধু উদ্ধার ও অনুসন্ধানের কাজে মনোযোগ দিচ্ছি এবং পুরো এলাকা তল্লাশি করছি।’
ভূতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ফ্লোরেসের উত্তর উপকূলের অদূরে সমুদ্রের নিচে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উঁচু ভবন তুলনামূলক কম থাকায় বড় ধরনের ভবনধসের ঝুঁকি কিছুটা কম বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিএনপিবির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে অন্তত ৯১৪টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া আরও শত শত বাড়িঘর কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় রয়েছে সরকারি ও জনসেবা প্রতিষ্ঠানও। এর মধ্যে ৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৩৬টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৩৮টি সরকারি কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম