যোগফল প্রতিবেদক:
রাশিয়ার উদ্দেশে মিয়ানমার ছেড়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে নেপিডো থেকে মস্কোর উদ্দেশে রওনা হন তিনি। সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তার।
বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি মিন অং হ্লাইংয়ের প্রথম রাশিয়া সফর। ২০২১ সালে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই মিয়ানমারের সামরিক সরকারের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে রাশিয়া পাশে রয়েছে।
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোই সফরের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হবে।
সফরকালে মিন অং হ্লাইং রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমার স্পিকারের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। পাশাপাশি মিয়ানমার-রাশিয়া অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রুশ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে আসছে। এসব অভিযানে বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী কয়েকটি সংস্থা সামরিক বাহিনীর কিছু হামলাকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমার ও রাশিয়া পাঁচ বছরের একটি সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। তবে ওই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে ব্যাপক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পশ্চিমা দেশ ও গণতন্ত্র পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থা গত বছরের নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য নয় বলে সমালোচনা করেছে।
এপ্রিলের পর মিন অং হ্লাইং চীন, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ সফর করেছেন। আন্তর্জাতিকভাবে অনেকটা বিচ্ছিন্ন মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানো এবং দেশটির আন্তর্জাতিক অবস্থান শক্তিশালী করাই এসব সফরের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম