যোগফল প্রতিবেদক:
কারখানায় ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) চালু না রেখে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের (বিসিসিটি) নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভুঁইঘর এলাকায় বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে চলমান খাল পুনরুদ্ধার ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘যতক্ষণ একটি কারখানা চালু থাকবে, ততক্ষণ ইটিপিও চালু রাখতে হবে।’ পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান কয়েক ঘণ্টা ইটিপি চালানোর পর তা বন্ধ করে দেয়। ফলে অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি খাল ও জলাশয়ে গিয়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। এ ধরনের প্রবণতা বন্ধে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বন্ধ থাকা ইটিপিগুলোও দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শুধু শিল্পকারখানা নয়, পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষকেও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান বিসিসিটি এমডি। তিনি বলেন, অনেক বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি ড্রেনে ময়লা পানি ফেলা হচ্ছে। পরে এসব বর্জ্য খালে গিয়ে জমা হওয়ায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং খালগুলো নর্দমায় পরিণত হচ্ছে।
সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রকল্প পরিদর্শন শেষে কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও এর উদ্দেশ্য ইতিবাচক। কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে পুরো প্রকল্প সম্পন্ন করা প্রয়োজন। তিনি প্রকল্পে লুটপাটের কোনো আলামত দেখেননি বলেও জানান। উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে দেশ ও জনগণ উপকৃত হবে।
পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু সহনশীল নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যেই প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। খালের পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ইটিপি স্থাপন ব্যয়বহুল হওয়ায় বিকল্প সমাধান নিয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান বিসিসিটি এমডি। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস থেকে পানি সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সংরক্ষণের পাশাপাশি খাল ও নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, টেকসই ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; শিল্প মালিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতায় এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি খালে তীর সংরক্ষণ, প্রায় ৬ হাজার ২০২ মিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও বনায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করছে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম